প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কথায় বলে, ‘বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ’, আর বাংলার রাজনীতিতে বারো মাসই ফুল থ্রিলার সিনেমা! ২০২৬-এর ঐতিহাসিক মহানাটকের পর থেকেই বিরোধী শিবিরের কিছু ‘পাবলিক’ একটা কাল্পনিক স্ক্রিপ্ট বাজারে ছাড়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিল। পাড়ার মোড় থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সব জাযগায় জোর ফিসফাস, “মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি না পেয়ে সুকান্ত মজুমদার নাকি মনে মনে ওহহ দারুণ চটেছেন!” কিন্তু গতকাল নবান্নের অলিন্দে যা ঘটল, তা এক নিমেষে সমস্ত জল্পনাকারীদের মুখে একেবারে চুনকালি লেপে দিল। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তরে সুকান্ত মজুমদারের এন্ট্রি আর তারপর যে ‘মেগা ধামাকা’ হলো, তা দেখে বিরোধী শিবিরের বুক ধড়ফড়ানি শুরু হয়ে গিয়েছে!
যাঁরা দূরবীণ দিয়ে দুই নেতার মধ্যে দূরত্বের দেওয়াল খুঁজছিলেন, গতকাল নবান্নের লাইভ দৃশ্য দেখে তাঁদের হার্টবিট মিস হওয়ার জোগাড়! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হাসিমুখে জড়িয়ে ধরে সুকান্ত বাবু যখন সংবর্ধনা দিলেন, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে যেন সিনেমার সুপারহিট মিউজিক বাজছিল। দুজনের চওড়া হাসি আর চোখের ইশারা এক লহমায় বুঝিয়ে দিল—”ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে!” সুকান্ত বাবু স্পষ্ট করে দিলেন, ভারতীয় জনতা পার্টিতে কোনো ব্যক্তিস্বার্থের জায়গা নেই, এখানে ‘টিম গেম’-ই আসল। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে শুভেন্দুদা আছেন আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রক সুকান্ত বাবুর হাতে—এই পাওয়ারফুল কেমিস্ট্রি দেখে নবান্নের কর্মচারীরাও বলাবলি করছেন, “একেবারে যেন বলিউডের ব্লকবাস্টার জুটি!”
নির্বাচনের বাজারে পুরোপুরি কুপোকাত হওয়ার পর তৃণমূলের হাতে এখন নতুন কোনো ‘কন্টেন্ট’ নেই। তাই তারা বিজেপির অন্দরে ফাটল খোঁজার এক মরিয়া ও সস্তা চেষ্টা চালাচ্ছিল। ফেসবুক-ইউটিউবে সুকান্ত বাবুর তথাকথিত ‘হতাশা’ নিয়ে যারা প্রতিদিন মশলাদার গল্প রান্না করছিল, গতকালের এই মেগা বৈঠকের পর তাদের সেই কাল্পনিক বেলুন এক লহমায় ‘পাংচার’ হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা হেসে বলছেন, যেখানে বিরোধী শিবির নিজেদের ঘর সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে শুভেন্দু-সুকান্তর এই ‘হিট জুটি’ একাধারে প্রশাসন এবং সংগঠন—দুটোই একাহাতে সামলে চার ছক্কা হাঁকাচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক কড়া অ্যাকশন নিচ্ছেন এবং সুকান্ত মজুমদার যেভাবে মাঠের রাজনীতি গরম রাখছেন, তাতে এই জুটি আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক ‘অল-টাইম ব্লকবাস্টার’ উপহার দিতে চলেছে। নিন্দুকেরা যতই খোঁটা দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, সুকান্ত-শুভেন্দুর এই অটুট একতা আর জমাটি বন্ধুত্বের ট্রেলারের সামনে বিরোধীদের পুরো পলিটিক্যাল স্ক্রিপ্টই এখন সুপারফ্লপ!