প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে এক যুগান্তকারী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। আর এই মহানাটকীয় পালাবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কি পুরোপুরি ভেঙে পড়ল তৃণমূল চালিত কলকাতা পুরসভার (KMC) শাসনভার? নবান্নে গেরুয়া ঝড় ওঠার পর থেকে পুরসভার অন্দরে যে নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা আজ এক চরম মাত্রায় পৌঁছাল।
প্রশাসনিক মহলে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়ে প্রথমে বাতিল করা হয়েছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেয়র পারিষদ (MMIC) বৈঠক। সেই রেশ কাটার আগেই আজ খোদ পুর-সচিবের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থগিত করে দেওয়া হলো কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনও। পরপর দুটি সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক বৈঠক এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই প্রশাসনিক স্থবিরতার নেপথ্যে রয়েছে গভীর অভ্যন্তরীণ সংকট। একদিকে বিদায়ী শাসক শিবিরের মেয়র ফিরহাদ হাকিম, অন্যদিকে পুর কমিশনার— এই দুই শীর্ষ কর্তার মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র সমন্বয়হীনতা ও ঠান্ডা লড়াইয়ের ফলেই আজ পুরবোর্ডের ফাইল আদান-প্রদান থমকে গিয়েছে। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে বিদায়ী পুরবোর্ডের এই টানাপোড়েনই আজ কলকাতাকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
পুরসভা সূত্রের খবর, মেয়র পারিষদ বৈঠকের আগে আলোচনার জন্য জমা পড়েছিল মাত্র ৩টি নামমাত্র ‘অ্যাজেন্ডা’। এর থেকেই পরিষ্কার, কলকাতার কোটি কোটি নাগরিকের করের টাকায় চলা এই পুরবোর্ডের কাছে খোদ শহরের উন্নয়নের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাই আর অবশিষ্ট নেই। খোদ কলকাতা শহরের ১০২টি ওয়ার্ডে এবার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। রাজনৈতিক জমি হারানোর পর এই পর্যাপ্ত কাজের অভাব ও সমন্বয়হীনতা ঢাকতেই কি তড়িঘড়ি অধিবেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে।
এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা কলকাতার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল। সামনেই বর্ষা, অথচ ডেঙ্গি প্রতিরোধ থেকে শুরু করে নিকাশি ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এই টানাপোড়েনের জেরে কার্যত বিশ বাঁও জলে। রাজ্যে বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পর, জনগণের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তৃণমূলের এই পুরবোর্ড কি তবে তার নৈতিক অধিকার ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুই-ই হারিয়ে ফেলল? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা।