প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তিলজলার রণক্ষেত্রের ঘটনায় অবশেষে চরম নাটকীয় মোড়। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে নাম জড়ানোর পর, আইনি জালে কার্যত কোণঠাসা হয়ে অবশেষে আলিপুর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলেন কসবার দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান। গণনা পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের তালিকায় নাম থাকার পর থেকেই এই আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
গত ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পরেই কসবার তিলজলা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ব্যাপক অশান্তি, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় সরাসরি নাম জড়ায় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও ১০ জন অনুগামীর। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই অভিযোগ করা হচ্ছিল যে, শাসকদলের মদতেই কসবা ও তিলজলা এলাকায় বিরোধী কর্মীদের ওপর লাগাতার অত্যাচার চালানো হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
মামলার অন্য ১০ জন অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই একে একে জামিন পেয়ে গেলেও, মূল লাইমলাইটে ছিলেন খোদ বিধায়ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনি চাপ এবং জনরোষের হাত থেকে বাঁচতেই শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হলেন এই হেভিওয়েট নেতা। এদিন আলিপুর আদালতে তাঁর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন পেশ করেন।
আইনি নিয়ম মেনে আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও, এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বিধায়ক জাভেদ খান সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং আইনজীবীর পরামর্শেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, অপরাধ ধামাচাপা দিতেই এখন দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন তৃণমূল বিধায়ক। তিলজলার সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী কর্মীরা এই আত্মসমর্পণের ঘটনাকে আইনের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন।