প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ রাতারাতি বদলে গিয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে একাধিক বিষয় নিয়ে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের বাসস্থান ‘শান্তিনিকেতন’ সহ মোট ১৭টি ঠিকানায় কলকাতা পুরসভার (KMC) পাঠানো ডিমোলিশন নোটিশ ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই প্রবল প্রশাসনিক তৎপরতার মাঝেই আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ, যা তাঁর রাজনৈতিক ও আইনি কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ১৯৮০ সালের পুর আইনের ৪০০(১) ও ৪০১ ধারায় নোটিশ দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নকশা-বহির্ভূত বা বেআইনি অংশ সরাতে হবে। এই নোটিশের জবাবে আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুর প্রশাসনকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দাবি করেছেন, তাঁর সম্পত্তির ঠিক কোন অংশটি অবৈধ, তা পুরসভা আগে এসে সুনির্দিষ্টভাবে ‘মার্ক’ বা চিহ্নিত করে দিক।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর পর অতীতের মতো সরাসরি সংঘাতের পথে না গিয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছেন অভিষেক। পুরসভার নোটিশে সুনির্দিষ্ট বিবরণের অভাবকে হাতিয়ার করে, বল পুর কতৃপক্ষের কোর্টেই ঠেলে দিতে চাইছেন তিনি। এই “মার্ক করে দেওয়ার” দাবি আসলে আইনি প্রক্রিয়াকে কিছুটা দীর্ঘায়িত করার এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের গতি শ্লথ করার একটি নিয়মতান্ত্রিক চাল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্যে এখন নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইন নিজের পথেই চলবে এবং বাংলায় কোনো বেআইনি নির্মাণ বা বিশেষ ভিআইপি সংস্কৃতি বরদাস্ত করা হবে না। নতুন এই জিরো-টলারেন্স নীতির আবহে পুরসভার রুটিন নোটিশকে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাবও জনসমক্ষে চলে এসেছে।খোদ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, এই নোটিশের বিষয়ে তাঁর কাছে আগে কোনো আগাম খবর ছিল না এবং এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে নেওয়া সিদ্ধান্ত। মেয়রের এই দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা এবং দলের প্রধান সেনাপতির এই আইনি লড়াইয়ের পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্বও কিছুটা কোণঠাসা।
কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কোনো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ (Coercive Action) থেকে অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা দিয়েছে। তবে এই আইনি স্বস্তি মিললেও নোটিশে উল্লিখিত অভিযোগগুলি সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় তৈরি করেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর আইনের হাত থেকে বাঁচতে এখন প্রযুক্তিগত ও আইনি ফাঁকফোকর খুঁজছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া আসলে প্রবল মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এখন দেখার, কলকাতা পুরসভা সত্যিই সেই বাসস্থানে গিয়ে বিতর্কিত অংশ চিহ্নিত করতে পারে, নাকি এই আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ রূপ নেয়।