প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কী ভাবছেন? ভাঙড় শান্ত? চালতাবেড়িয়ায় গত মার্চের সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যেখানে বোমা বাঁধতে গিয়ে আস্ত একটা বাড়ি খড়কুটোর মতো উড়ে গেল, একজন মারা গেলেন, সেই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় কি এত সহজে ধামাচাপা দেওয়া যায়? যায় না। আইন তার নিজের গতিতেই চলে, আর আজ সকালে সেই গতির ধাক্কাতেই কেঁপে উঠল জীবনতলার মৌখালি গ্রাম। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, অঞ্চলের ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ নেতা সওকত মোল্লার বাড়িতে আজ সাতসকালে হাজির এনআইএ (NIA)-র বিশেষ দল। সঙ্গে থিকথিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

খবরটা ঠিক কী? একটু খতিয়ে দেখা যাক। আজ সকাল যখন সবে হচ্ছে, চারপাশ যখন শান্ত, ঠিক তখনই সওকত মোল্লার বাড়ি আর তাঁর স্থানীয় কার্যালয় ঘিরে ফেলে এনআইএ। উদ্দেশ্য? চালতাবেড়িয়া বিস্ফোরণের শিকড় কোথায়, তা উপড়ে ফেলা। কিন্তু চমকের এখানেই শেষ নয়। তদন্তকারীরা যখন বাড়িতে ঢুকলেন, তখন খোদ সওকত মোল্লা বেপাত্তা! তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাও খালি হাতে ফেরার পাত্র নন। বাড়িতেই তাঁরা মুখোমুখি হন সওকত মোল্লার ছেলের। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘরের দরজা বন্ধ করে সওকত-পুত্রকে এনআইএ-র বিশেষ টিম এখনো অনবরত জেরা করে চলেছে। বয়ানের অসঙ্গতি মেলাতেই চলছে এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ। রাজনৈতিক মহল কিন্তু এই ঘটনায় রীতিমতো তৃণমূল শিবিরের ব্যাকফুট দেখছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, ভাঙড়-ক্যানিং বেল্টে পুলিশের নাকের ডগায় যে বোমাবাজির সমান্তরাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল, তার পিছনে ছিল রাজনৈতিক প্রশ্রয়। এতদিন স্থানীয় প্রশাসনকে ঢাল করে যারা বুক ফুলিয়ে চলতেন, আজ এনআইএ-র এই সাঁড়াশি অভিযান তাঁদের মেরুদণ্ডে ভয়ের হিমস্রোত বইয়ে দিয়েছে। দিল্লি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল—সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে, বারুদের রাজনীতির প্রশ্নে কোনো আপস হবে না। এখন প্রশ্ন হলো, ছেলের জেরা শেষ হলে এবার কি খোদ সওকত মোল্লার পালা? নাকি বরাবরের মতো এবারও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র তত্ত্ব খাড়া করে দায় এড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করবে তৃণমূল নেতৃত্ব? নজর থাকবে আমাদের পোর্টালে। প্রতি মুহূর্তের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন।