প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দিল্লিতে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে রওনা হওয়ার ঠিক আগে সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্ট করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন, সোনারপুরের ঘটনার পর গত ৭ দিনে তিনি কোনো ধরনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেননি। একই সঙ্গে এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারের নজরদারির ব্যর্থতা হিসেবে দেগে দিয়েছেন তিনি।এদিকে অভিষেকের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য বিজেপি শিবিরে। বিজেপির দাবি, নিজের ওপর হওয়া হামলার দায় এড়াতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে এক বন্ধনীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রধান।

আজ দিল্লি রওনা হওয়ার প্রাক্কালে নিজের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ বিবৃতি পোস্ট করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবিকে নস্যাৎ করে তিনি লেখেন, “সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ রিপোর্ট করছে যে গত মাসের ৩০ তারিখে সোনারপুরে আমার ওপর হামলার পর আমি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়েছি। এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সত্য থেকে বহু দূরে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, হামলার পর গত ৭ দিনে তিনি কোনো নিরাপত্তা কভার চাননি। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে তাঁর বিবৃতির পরবর্তী অংশটি। অভিষেক লিখেছেন, “ঘটনাটি রাজ্য এবং কেন্দ্র—উভয় সরকারের নজরদারির মধ্যেই ঘটেছে। কোন পরিস্থিতিতে এই হামলা হলো, তা নিয়ে দুই সরকারকেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে ও জবাবদিহি করতে হবে।” এর পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোস্ট সামনে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির অভিযোগ, সোনারপুরে হওয়া ঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে রাজ্য প্রশাসনের সমান্তরালে কেন্দ্র সরকারকেও এই ঘটনার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক। দিল্লির বৈঠকে যাওয়ার আগে এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নিজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া মাত্রই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। অথচ সাধারণ মানুষের ওপর কোনো রাজনৈতিক হিংসা বা অত্যাচারের ঘটনা ঘটলে তৃণমূল নেতৃত্ব বরাবরই উদাসীন থাকে। আজ দিল্লি যাওয়ার আগে হঠাৎ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য খোদ তৃণমূল যুবরাজের দরদ উথলে ওঠা অত্যন্ত সুবিধাবাদী রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা না চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে নিজেকে ‘নির্ভীক’ প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও, তাঁর এই পোস্টের জেরে কেন্দ্র ও রাজ্যকে এক সারিতে বসিয়ে দেওয়ার কৌশল আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।