প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় আজ রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র দ্বিতীয় তলবও এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে গত ১ জুন প্রথম নোটিশের জবাবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়েছিলেন তিনি। তবে সিআইডি তাঁকে মাত্র ৭ দিন সময় দিয়ে আজ, ৮ জুন দুপুর ১২ টায় মূল রেজোলিউশন বইসহ ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার জন্য দ্বিতীয় নোটিশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দিল্লিতে থাকার কারণে এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি আজও হাজিরা দিতে পারবেন না বলে চিঠি পাঠিয়েছেন।রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পটভূমিতে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার তদন্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতার সমীকরণ বদলানোর পর এই প্রথম কোনো বড়সড় জালিয়াতি মামলায় প্রাক্তন ক্ষমতাশালীদের এভাবে তদন্ত এড়ানোর ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকে এই অনুপস্থিতি নিয়ে তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানানো হয়েছে। পদ্ম শিবিরের স্পষ্ট দাবি, নিজের দলেরই ১৩ জন বিধায়কের সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। বারবার ‘অসুস্থতা’ ও ‘দিল্লিতে থাকা’-র অজুহাত দিয়ে সিআইডি তদন্ত প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চলছে বলেও রাজ্যের শাসক দল অভিযোগ তুলেছে।

একদিকে সিআইডির তলব এড়ানো, অন্যদিকে গ্রেফতারি বা কোনো প্রকার কঠোর পদক্ষেপ এড়াতে তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অন্তর্বর্তী সুরক্ষার আবেদন করা—অভিষেকের এই জোড়া পদক্ষেপকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব আইনি ঢাল খোঁজার মরিয়া চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির সমস্ত রাজনৈতিক অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করেন এবং সম্পূর্ণ সঠিক ও ও যৌক্তিক কারণেই আজ সময় চেয়েছেন। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি খোঁজা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, বিধানসভার নথিতে দলের বিধায়কদের সমর্থন পত্রে সই জাল করার অভিযোগে সিআইডি এই তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।