প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায়, রাজ্যের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। সোমবার বিধানসভার লবিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম সদস্য তথা বিধায়ক সন্দীপন সাহার হাত ধরে নবনির্বাচিত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে প্রবেশ করলেন ফিরহাদ হাকিম। মেয়রের আসন ছাড়ার পর ফিরহাদের এই আকস্মিক পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিরাট বড় মোড় এনে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ভরাডুবি। নির্বাচনের এই ফলাফলের পর থেকেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধে। যার জেরে গত সপ্তাহে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন (৫৮ জন) বিধায়ক শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা হিসেবে বেছে নেন এবং বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর ফলেই কার্যত পরিষদীয় দলে স্পষ্ট ভাঙন ধরে এবং দল দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।দলের এই নজিরবিহীন ডামাডোলের আবহেই গত ৫ জুন কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে সসম্মানে ইস্তফা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সেনাপতি ফিরহাদ হাকিম। পদত্যাগের পর আক্ষেপের সুরে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঢাল-তরোয়ালহীন ‘নিধিরাম সর্দার’ হয়ে চেয়ার আঁকড়ে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। মেয়রের পদ ছাড়ার ঠিক তিন দিনের মাথায় আজ বিধানসভার লবিতে এসে বসেন তিনি। কিন্তু সেখানে বসার মাত্র দু’মিনিটের মাথায় বিক্ষুব্ধ শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা তাঁকে ডেকে সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে নিয়ে যান।

তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ২ দিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি শীঘ্রই ফিরহাদ হাকিমের সাথে যোগাযোগ করবেন। আজ ফিরহাদের স্বয়ং তাঁর ঘরে যাওয়ার ঘটনা সেই জল্পনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, তবে কি এবার মমতার পাশ থেকে সরে ঋতব্রতর ‘নতুন তৃণমূল’ বা বিক্ষুব্ধ শিবিরের দিকেই পা বাড়াচ্ছেন ববি হাকিম? এটি শুধুই কোনো সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি কোনো বড় রাজনৈতিক রদবদলের রূপরেখা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েট নেতা যদি সত্যিই নতুন কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা মূল তৃণমূল শিবিরের জন্য মস্ত বড় ধাক্কা হতে চলেছে। যদিও এই নাটকীয় সাক্ষাতের পর ফিরহাদ হাকিম বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অফিশিয়াল প্রতিক্রিয়া বা বয়ান মেলেনি। তবে বিধানসভার অলিন্দে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা যে রাজ্যের রাজনীতির পারদকে আরও কয়েক ডিগ্রি চড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।