প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সল্টলেকের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা তোলাবাজি এবং লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সোমবার গভীর রাতে রাজারহাটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার হয়েছেন বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশি জালে ধরা পড়ার পর, মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যাওয়ার সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে অস্বীকার করেছেন এই নেতা।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে সব্যসাচী দত্ত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সপাটে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “এক কোটি কেন, একশো কোটিও বলতে পারে। একটা টাকাও যদি কোনোদিন আমাকে দিয়ে থাকে, তাহলে আমাকে ফাঁসি কাঠে ঝুলিয়ে দিক।” তিনি দাবি করেন, এই পুরো মামলাটি মিথ্যা এবং সাজানো। ধৃত চেয়ারম্যানের এই “ফাঁসি কাঠে ঝোলার” চ্যালেঞ্জকে অবশ্য স্রেফ ‘রাজনৈতিক মেলোড্রামা’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করার পরেই এখন সহানুভূতি পাওয়ার এই চেনা ছক নেওয়া হচ্ছে। অতীতেও একাধিক অভিযুক্ত নেতাকে গ্রেফতারির সময় এমন অবলীলায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে দেখা গিয়েছে বলে কটাক্ষ করছে বিরোধী শিবির।

নিজের পিঠ বাঁচাতে সব্যসাচী দত্ত উলটে অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তীর অতীত রেকর্ড নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি শুরু করেছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। সব্যসাচী বাবুর দাবি, ওই ব্যবসায়ী নাকি নিজেই ২০১৮ সালে একটি জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং তাঁর পরিবারের লোক নাকি তখন এই চেয়ারম্যানের কাছে এসে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য কান্নাকাটি ও তদবির করেছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, অতীতে কেউ অপরাধ করে থাকলে কি বর্তমান জমানায় তাঁর ওপর কোটি টাকার তোলাবাজি করা বা সপরিবারে খুনের হুমকি দেওয়ার ছাড়পত্র কোনো নেতা পেয়ে যান? নিজের অপরাধ ঢাকতে অভিযোগকারীর চরিত্র হনন করা আসলে মূল তদন্ত থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরানোর একটি মরিয়া অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে দাবি করছে বিজেপি শিবির।

সব্যসাচী দত্ত যতই একে সাজানো মামলা বলে দাবি করুন না কেন, মঙ্গলবার সকালে বিধাননগর হাসপাতাল চত্বরে এই প্রভাবশালী নেতাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের একাংশের স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। তোলাবাজির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ধৃত নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম এবং গোবর ছোড়া হয় বলে খবর।

বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট দাবি, বছরের পর বছর ধরে যে সিন্ডিকেট রাজ আর তোলাবাজি সংস্কৃতি কায়েম রাখা হয়েছিল, আজ সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তারই বহিঃপ্রকাশ। পুলিশ প্রশাসন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ক্ষমতার দম্ভে এতদিন যা করা হয়েছিল, আইন এখন তার শেষ দেখে ছাড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পুরো বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।