প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সরকারি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে এবার সরাসরি আমজনতার তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাস। তাঁর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখার অভিযোগ সামনে আসতেই সকাল থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। ক্ষোভে ফেটে পড়া স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে ধরে জোরালো বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে এবং তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল এবং অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছিল। এই খবর চাউর হতেই শয়ে শয়ে মানুষ তাঁর বাড়ি ঘেরাও করেন। বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, অতীতে গরিব মানুষের জন্য আসা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ত্রাণ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। কৃষ্ণনগরের এই ঘটনা সেই অভিযোগকেই নতুন করে উস্কে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু উত্তেজিত জনতার ক্ষোভের মুখে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। অভিযুক্ত নেতার শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা উজ্জ্বল বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এই নজিরবিহীন জনরোষ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে ভারতীয় জানতা পার্টি (BJP)। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “তৃণমূল জমানার রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি ছিল, তা আজ সাধারণ মানুষ নিজের চোখে দেখে নিয়েছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় গরিব মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ কীভাবে প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তার তদন্ত হওয়া দরকার। পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।”
যদিও এই চুরির অভিযোগ এবং মজুত ত্রাণের বিষয়ে উজ্জ্বল বিশ্বাস বা তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। (তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে খবরে যোগ করা হবে)। এই ঘটনার পর কৃষ্ণনগর জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে।