প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকভবনে নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রীদের জমকালো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। কিন্তু কোন হেভিওয়েট নেতার কাঁধে কোন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জরম জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। অবশেষে নবান্ন এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর।তৃণমূল জমানার দীর্ঘ অপশাসন, দুর্নীতি আর অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপ থেকে পশ্চিমবঙ্গকে টেনে তুলতে এবং রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে এই সম্ভাব্য দফতর বণ্টন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। দক্ষ সংগঠক থেকে শুরু করে প্রবীণ ও যোগ্য মুখ—সবাইকে তাঁদের উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট এখন সম্পূর্ণ রেডি।
অর্থ দফতর (স্বপন দাশগুপ্ত – রাসবিহারী): রাজ্যের রুগ্ণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং রাজকোষের আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিজ্ঞ স্বপন দাশগুপ্তের হাতেই যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রক।
শিল্প দফতর (তাপস রায় – মানিকতলা): বাংলায় নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে সবচেয়ে বড় ও চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পেতে চলেছেন প্রবীণ নেতা তাপস রায়।
স্বাস্থ্য দফতর (ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় – বিধাননগর): বিগত সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প বাংলায় পুরোপুরি চালু করার গুরুদায়িত্ব সামলাবেন তিনি।
উচ্চশিক্ষা দফতর (জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় – সিউড়ি): শিক্ষাঙ্গন থেকে সিন্ডিকেট রাজ খতম করে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারেন সিউড়ির এই লড়াকু মুখ।
শিক্ষা ও বস্ত্র দফতর (দীপক বর্মন – ফালাকাটা): প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং রাজ্যের ধুঁকতে থাকা বস্ত্র শিল্পের পুনরুজ্জীবনে কাজ করবেন তিনি।
পরিবহণ ও শ্রম দফতর (অর্জুন সিং – নোয়াপাড়া): শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ডাক পেতে চলেছেন অর্জুন সিং।
কৃষি দফতর (দুধকুমার মণ্ডল – ময়ূরেশ্বর): মোদীজির কিষাণ সম্মান নিধির শতভাগ সুবিধা গ্রামীণ বাংলার চাষীদের দুয়ারে পৌঁছে দিতে মাটির মানুষ দুধকুমার মণ্ডলের উপর আস্থা রাখা হচ্ছে।
পর্যটন ও পরিষদীয় দফতর (শঙ্কর ঘোষ – শিলিগুড়ি): পর্যটনে বাংলার অপার সম্ভাবনাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে উত্তরবঙ্গের লড়াকু নেতা শঙ্কর ঘোষকে।
বন ও পরিবেশ দফতর (মনোজ ওঁরাও – কুমারগ্রাম): পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন উত্তরবঙ্গের এই ভূমিপুত্র।
প্রশাসনিক রাশ শক্ত রাখতে স্বরাষ্ট্র ও আইন মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অনুপ্রবেশ রোখা এবং কড়া হাতে মাফিয়ানিয়ন্ত্রণ করতে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অতি গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র, আইন, বিদ্যুৎ, ও ভূমি সংস্কারের মতো দফতরগুলো মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতেই রাখতে চলেছেন।
সূত্রের খবর, এই শক্তিশালী ও কর্মঠ সম্ভাব্য ক্যাবিনেট তালিকাটিতে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব সিলমোহর দিলেই যেকোনো মুহূর্তে নবান্নের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। তুষ্টিকরণের রাজনীতি ভুলে কেবলই ‘বিকাশ ও অন্ত্যোদয়’ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এই টিম সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু করতে চলেছে।