প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু হয় না— এই আপ্তবাক্যটি আমরা সবাই জানি। কিন্তু ক্ষমতার মোহ এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে সমীকরণের এভাবে ওলটপালট হওয়া বোধহয় বাংলার মানুষ এর আগে কখনও দেখেনি। চব্বিশ বছর আগে যে কংগ্রেসের হাত ছেড়ে, তাদের ‘আলবিদা’ জানিয়ে নিজের দল গড়েছিলেন, আজ নবান্ন থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে সেই কংগ্রেসেরই সদর দপ্তরে পুনর্বাসনের জন্য লাইন দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে এখন সবথেকে বড় খবর— সোনিয়া গান্ধীর প্রস্তাব রয়েছে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি পদের জন্য! সঙ্গে নাকি জুড়তে চলেছে ভাইপোর নামও।
একটা সময় ছিল যখন বাংলায় কংগ্রেসকে স্রেফ ‘সাইনবোর্ড’ বলে কটাক্ষ করা হতো। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের পাত্তাই দিতেন না প্রাক্তন শাসকদলের নেতারা। আজ পরিস্থিতি এমন জায়গায় ঠেকেছে যে, বাংলায় রাজনৈতিক অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে স্রেফ টিকে থাকার জন্য দিল্লির হাইকম্যান্ডের দয়া ভিক্ষা করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, একেই বলে প্রকৃতির বিচার। যে জেদের হাত ধরে একদিন বাংলা থেকে কংগ্রেসকে উপড়ে ফেলার পণ নেওয়া হয়েছিল, আজ সেই কংগ্রেসের ছাতার তলাতেই মাথা গোঁজার মরিয়া চেষ্টা চলছে।
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েই নয়, খবর রয়েছে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর দফায় দফায় কথোপকথনের নির্যাস কী? ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট দাবি— রাজ্যে রাজনৈতিক জমি হারানোর পর এখন জাতীয় স্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি এবং বিরোধী জোটে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতেই এই চরম ডিগবাজি। আদর্শের বুলি কপচানো নেতারা আজ নিজেদের স্বার্থে দিল্লির দরবারে যেভাবে সমর্পণের রাস্তা খুঁজছেন, তা দেখে বাংলার সচেতন ভোটাররা হাসছেন। ক্ষমতা গেলে যে কতখানি অসহায় হতে হয়, প্রাক্তন শাসকদলের এই করুণ দশাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এদিকে এই ‘ঘর ওয়াপসি’র খবরে তীব্র অস্বস্তিতে প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ থেকে নিচুতলার নেতৃত্ব। যে কর্মীরা বিগত বছরগুলোতে মার খেলেন, মিথ্যা মামলার শিকার হলেন, আজ তাঁরা কোন মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই কংগ্রেস-ভুক্তি মেনে নেবেন? তবে দিল্লির হাইকম্যান্ডের কাছে বাংলার কর্মীদের আবেগের চেয়ে যে লোকসভার আসন আর ক্ষমতার অঙ্ক বড়, তা আবারও পরিষ্কার। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দলবদল আসলে এক চরম নীতিহীনতার খেলা। তবে দল পরিবর্তন করলেও, বিগত দিনে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া অন্যায়ের জবাব যে বাংলার মানুষ আইনি ও গণতান্ত্রিক পথেই খুঁজবে, তা কিন্তু একপ্রকার নিশ্চিত।