প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঘাসফুল শিবিরের রাজনৈতিক আকাশে কি তবে এবার চূড়ান্ত সূর্যাস্তের পালা? রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল ঘটার পর এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল। ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী আসনে বসা এই দলটির অন্দরে যখন তীব্র ডামাডোল, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিল এক বিস্ফোরক গুঞ্জন! লোকসভা ভোটে যাদবপুরের যে ‘পোস্টার গার্ল’ সায়নী ঘোষকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ছিল তুঙ্গে, দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর খবর— সেই যুবনেত্রীই নাকি এবার এক নতুন রাজনৈতিক ইনিংসের সলতে পাকাচ্ছেন!দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে জোর গুঞ্জন, তৃণমূলের একুশজন সাংসদের যে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর কথা শোনা যাচ্ছে, সেখানে নাকি নাম জড়িয়েছে সায়নী ঘোষেরও। সুত্রের দাবি, এই সাংসদেরা নাকি ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এনডিএ (NDA) শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও এই বিষয়ে সায়নী ঘোষ বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল কোনো সিলমোহর দেওয়া হয়নি, তাও রাজনৈতিক বোদ্ধাদের প্রশ্ন— বিরোধী বেঞ্চে বসা তৃণমূলের এই ভাঙনের জল্পনা কি তবে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দিতে চলেছে?
ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তৃণমূলের যে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সামনে আসছে, সায়নী ঘোষকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই গুঞ্জন তারই অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সায়নী ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের বরাতে রাজনৈতিক মহলে যে ৩টি মূল কারণ নিয়ে চর্চা চলছে। গুঞ্জন রয়েছে, রাজনৈতিক বা আইনি কোনো জটিল পরিস্থিতিতে দল যেভাবে তাঁর পাশে দাঁড়াবে আশা করা হয়েছিল, ক্ষমতা হারানোর পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা নাকি আশানুরূপ ছিল না। যুব তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পদের রাশ কি তবে আড়ালে থেকে অন্য কেউ টানছিলেন? রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, প্রচারের ময়দানে তাঁর কাজ করার স্বাধীনতায় নাকি বারবার অদৃশ্য ফরমান এসে বাধা সৃষ্টি করছিল। দিল্লির অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বিরোধী আসনে থাকা একটি ক্ষয়ে যাওয়া দলে থেকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নাকি চিন্তিত খোদ যুবনেত্রীই।
সুখেন্দু শেখর রায় বা সুস্মিতা দেবের মতো হেভিওয়েটদের ইস্তফার পর সায়নী ঘোষের নাম জড়িয়ে এই ধরণের জল্পনা ছড়ানোয় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত একটি দলের জন্য এই ধরণের গুঞ্জনও অত্যন্ত অস্বস্তিকর। সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু মহলে তাঁর কংগ্রেসে যাওয়ার তত্ত্ব ভাসিয়ে দেওয়া হলেও, বড় অংশের দাবি— হাওয়া এখন যেদিকে, সায়নী ঘোষও নাকি সেই দিকেই পা বাড়াতে পারেন। তবে এই সমস্তটাই এখন শুধুই জল্পনা এবং সূত্রের দাবির স্তরে রয়েছে। এখন দেখার, এই তীব্র জল্পনার জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়। সায়নী ঘোষ কি বিরোধী আসনেই থেকে যাবেন, নাকি বাংলার বর্তমান শাসক দল বিজেপির হাত ধরে নতুন কোনো ইনিংসের সূচনা করবেন— তা সময়ই বলবে। তবে এই জল্পনা কিন্তু ক্ষমতা বদলের বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন চড়া হাওয়া বইয়ে দিয়েছে।