প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় কি তবে সত্যিই ভিআইপি সংস্কৃতির দিন শেষ হলো? অতীতে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা যে নেতারা আইনকে পকেটে নিয়ে ঘুরতেন, নতুন জমানায় তাঁদেরও যে সাধারণ অভিযুক্তের মতোই আইনের মুখোমুখি হতে হবে—তা আরও একবার স্পষ্ট হলো ভবানী ভবনে। বিকেল ৫:৪৯ মিনিটে প্রবেশ এবং দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর রাত ১১:৩০ মিনিটে সিআইডি (CID) দপ্তর থেকে বের হওয়া—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জিজ্ঞাসাবাদের সময়সূচি নিয়ে এবার তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে প্রভাবশালী নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে যে লুকোছাপা বা বিশেষ খাতিরদারির চেনা ছবি দেখা যেত, নতুন প্রশাসনিক কড়াকড়ির জমানায় সেই সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ।

বিধায়কদের দস্তখত জালিয়াতির মতো মারাত্মক অভিযোগে তদন্তকারী সংস্থা যে কোনো আপস করতে রাজি নয়, মাঝরাত পর্যন্ত এই ম্যারাথন জেরা তারই প্রমাণ। ক্ষমতাসীন শিবিরের স্পষ্ট বার্তা—বিকেলে প্রবেশ, মাঝরাতে ছুটি! ‘ভিআইপি’ জমানার অবসান ঘটিয়ে মাঝরাত পর্যন্ত কড়া জেরা, সুশাসনের জমানায় কি আইনের চোখে সবাই সমান?অপরাধের তদন্তে কোনো দিন-রাতের ফারাক হবে না, আইনের হাত সবার জন্যই সমান কঠোর।

তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, দিনের আলোর প্রকাশ্য সময় এড়িয়ে কেন এই সান্ধ্যকালীন সময়কে বেছে নেওয়া হলো? জালিয়াতির মতো চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারিতে খোদ বিরোধী শিবিরের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে যেভাবে সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার টেবিলে বসতে হলো, তাতেই স্পষ্ট যে তদন্তের গতি কতটা তীব্র। আগামী ১৪ জুন ফের বেলা ১২টায়, অর্থাৎ দিনের আলোয় তাঁকে তলব করেছে সিআইডি। সুশাসনের এই কড়া জমানায় তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত কী বিস্ফোরক তথ্য টেনে বের করেন, এখন সেটাই দেখার।