প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের মসনদ ও জমানা বদলালেও, খাস নবান্নের পুরোনো ফাইলগুলি থেকে এখনো দুর্নীতির গন্ধ বের হওয়া বন্ধ হয়নি। নবান্নে নিজের কৃষি দপ্তরে পা রেখেই সেই ফাইলে প্রথম বড় কোপটি মারলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। কোনো রকম রাখঢাক না রেখে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন— পূর্বতন জমানার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে যেভাবে বেনোজল ঢুকেছিল, ঠিক একই রূপরেখা চলেছে কৃষকদের জন্য তৈরি ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পেও! মন্ত্রীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— “সেটাকে আমরা চেক করব, দেখে নেব”।
প্রশ্ন উঠছে, সরকারি কোষাগারের টাকা কি তবে প্রকৃত অন্নদাতাদের পকেটে যাচ্ছিল, নাকি ভোটার লিস্ট দেখে দেখে কিছু সুনির্দিষ্ট ‘পছন্দের’ মানুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছিল? দুধকুমার বাবু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভূমিহীন বা প্রকৃত অভাবী চাষিদের প্রাপ্য একটি পয়সাও আটকানো হবে না। কিন্তু যাঁরা চাষের জমির মালিক না হয়েও, স্রেফ রাজনৈতিক আনুকূল্যে ‘কৃষকবন্ধু’ কিংবা ‘বাংলা শস্যবিমা’র টাকা বেআইনিভাবে ঘরে তুলছিলেন, তাঁদের সেই আখের গোছানোর দিন এবার শেষ।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগের জমানার এই খয়রাতি প্রকল্পগুলির ভেতরে ঠিক কতটা গলদ ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা নিয়ে যে বিপুল অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠছিল, তার শিকড় কত দূর বিস্তৃত, সেটাই এখন খুঁজে বের করবে কৃষি দপ্তর। প্রয়োজনে ‘কৃষকবন্ধু’-র ত্রুটিপূর্ণ পরিকাঠামোকে ঝাড়াই-বাছাই করে স্বচ্ছ ও সরাসরি কেন্দ্রীয় অনুদান যুক্ত প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-Kisan) প্রকল্পের ছাতায় আনা হতে পারে, যেখানে কাটমানি বা ভুয়ো নামের কোনো স্থান নেই।
এতদিন যাঁরা ভেবেছিলেন— সরকারি প্রকল্প মানেই স্ক্রুটিনির ঊর্ধ্বে, নতুন কৃষিমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর তাঁদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। নবান্নের অলিন্দে এখন একটাই আলোচনা— বেনামে সরকারি টাকা তোলার খেলা এবার সত্যিই বন্ধ হতে চলেছে। তদন্তের জল কতদূর গড়ায়, আর কত ভুয়ো নামের মুখোশ খোলে, সেটাই এখন দেখার।