প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলার মঞ্চ থেকে দেওয়া এক উস্কানিমূলক ভাষণের জেরে এবার আইনি জালে জড়ালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট ও উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে মসনদ টিকিয়ে রাখতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী যে আগ্রাসী মন্তব্য করেছিলেন, ক্ষমতা হারানোর পর আজ সেটাই তাঁর জন্য বড়সড় আইনি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
পুলিশ ও এফআইআর-এর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন গত ৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে। ওই দিন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে তৃণমূলের এক ধরনা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত প্ররোচনামূলক ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ভাষা ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ। তুষার কান্তি দাস নামের এক সচেতন স্থানীয় বাসিন্দা এই নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলে সম্প্রতি সরব হন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদে বসে এই ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণেই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগকারী প্রথমে দক্ষিণ কলকাতার নেতাজি নগর থানায় অভিযোগ জানালেও, ঘটনাস্থল সেন্ট্রাল কলকাতা হওয়ায় নিয়ম মেনে মামলাটি হেয়ার স্ট্রিট থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা 2023’ (BNS)-এর একাধিক গুরুতর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে।
জানা গেছে, অভিযোগকারী তুষার কান্তি দাস প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই বিতর্কিত সভার সম্পূর্ণ ভিডিও রেকর্ডিং একটি পেন ড্রাইভে করে ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। হেয়ার স্ট্রিট থানার সাব-ইন্সপেক্টর হিমাদ্রি কাঞ্জিলালকে এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতা হারানোর পর এই এফআইআর তৃণমূল শিবিরের ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, উস্কানিমূলক বক্তব্যের মামলায় পুলিশ সরাসরি কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না। তবে তদন্তকারী অফিসার ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যেকোনো মুহূর্তে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বি এন এস-এর ধারা অনুযায়ী নোটিশ পাঠাতে পারেন।
আইনজীবীদের একটি বড় অংশের মতে, পুলিশি নোটিশ বা সম্ভাব্য গ্রেফতারির অস্বস্তি এড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিগাল টিম ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের (Anticipatory Bail) আবেদন বা এফআইআর খারিজের আবেদন জানানোর জন্য তড়িঘড়ি দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর আইনের এই কড়া লড়াইয়ে তৃণমূল নেত্রী কতটা টিকতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।