প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুলিশি ধরপাকড়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ প্রশাসন। এবার থেকে যেকোনো ধরনের তল্লাশি অভিযান বা কাউকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশকর্মীদের নির্দিষ্ট উর্দি (ইউনিফর্ম) পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের এই জনমুখী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে আমজনতা থেকে শুরু করে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিগত দিনে সাধারণ পোশাকে পুলিশের একাংশের অতিসক্রিয়তা এবং অতি-উৎসাহী মনোভাব নিয়ে জনমানসে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বহু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারতেন না যে তারা আসল পুলিশের মুখোমুখি হয়েছেন নাকি অন্য কোনো অপশক্তির। নতুন এই কড়া নির্দেশিকার ফলে সেই বিভ্রান্তি, জনহয়রানি এবং পুলিশি জুলুমের দিন সম্পূর্ণ শেষ হতে চলেছে।

প্রশাসনের জারি করা এই নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে তল্লাশি ও গ্রেফতারির সময় নির্দিষ্ট সরকারি পোশাক পরা আবশ্যিক। অত্যন্ত জরুরি বা বিশেষ অপারেশনের কারণে সাধারণ পোশাকে অভিযান চালাতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। তবে সেক্ষেত্রেও জনসমক্ষে নিজেদের সঠিক সরকারি পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। কাজের গোপনীয়তা ও বিশেষ রণকৌশল বজায় রাখতে শুধুমাত্র এসটিএফ (STF) বা গোয়েন্দা বিভাগের (DD) মতো নির্দিষ্ট কিছু শাখাকে এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

লালবাজার সূত্রে খবর, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে পুলিশকে আরও বেশি জনমুখী, নিয়মানুবর্তী এবং স্বচ্ছ করার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশিকা আসলে রাজ্যে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠারই এক বড় প্রতিফলন। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, উর্দিতে পুলিশ সামনে থাকলে নাগরিকরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করবেন এবং আইনের অপব্যবহার রোখা সম্ভব হবে। রাজ্য জুড়ে প্রকৃত সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।