প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অবশেষে দিঘার মেরিন ড্রাইভ প্রকৃত অর্থেই ‘মেরিন ড্রাইভ’ হতে চলেছে। এতকাল পর্যটনের নামে যা চলেছিল, তা যে স্রেফ আইওয়াশ—তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া এবং স্পষ্ট বার্তা, “মেরিন ড্রাইভের নামে একটা সরু রাস্তা তৈরি করে রাখা হয়েছিল। ওটা কোনও কাজেরই নয়। এবার ওটাকে অন্তত ২ লেনের চওড়া রাস্তা করা হবে।” মুম্বই বা চেন্নাইয়ের সমুদ্রসৈকতে যারা গেছেন, তারা জানেন মেরিন ড্রাইভের আসল রূপ কেমন হয়। অথচ এ রাজ্যে এতদিন শুধু গালভরা নাম দিয়ে পর্যটকদের চোখে ধুলো দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে দিল, রাজ্যে এখন আর ফাঁকা আওয়াজ নয়, কাজ হয়।

এতদিন যারা বড় বড় বুলি আউড়ে দিঘাকে আন্তর্জাতিক মানের করার স্বপ্ন ফেরি করতেন, তাদের জমানায় মেরিন ড্রাইভের নামে তৈরি হয়েছিল একটা গলির মতো সরু রাস্তা। কেন এই দূরদর্শিতার অভাব? কেন পর্যটকদের নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে স্রেফ লোকদেখানো তোল্লাই দেওয়া হয়েছিল? আজ শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এসে সেই ঠুনকো পরিকাঠামোর কঙ্কালটা সাধারণ মানুষের সামনে টেনে বের করলেন। মেরিন ড্রাইভের নামে এতদিন যে জোড়াতাপ্পির রাজনীতি চলেছে, তার ওপর এবার সরাসরি চাবুক চালালেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। একেই বলে সদিচ্ছা, একেই বলে প্রকৃত প্রশাসনিক দৃঢ়তা।

একনজরে মুখ্যমন্ত্রীর মাস্টারস্ট্রোক: আসল মেরিন ড্রাইভ: দিঘার সংকীর্ণ রাস্তা ভেঙে মুম্বই-চেন্নাইয়ের ধাঁচে ন্যূনতম ২ লেনের চওড়া মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ। করমুক্ত দিঘা: পর্যটকদের ওপর চেপে থাকা অন্যায় ১০ টাকার ‘ট্যুরিস্ট ট্যাক্স’ আগামী ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণ বাতিল। সুরক্ষিত সৈকত: পর্যটকদের সমুদ্রস্নানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সৈকতে নুলিয়া ও লাইফগার্ডের সংখ্যা একধাক্কায় বিপুল বৃদ্ধি। নন্দকুমার থেকে দিঘা ডবল রেল লাইনের জমি অধিগ্রহণ দ্রুত শেষ করার এবং দাদনপাত্রবাড়ে ১,৭০০ একর জমিতে মেগা গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ।

একদা যারা এই রাজ্যকে কেবল সিন্ডিকেট আর তোলাবাজির চারণভূমি বানিয়ে রেখেছিল, তাদের তৈরি করা সমস্ত জঞ্জাল এবার একে একে সাফ হচ্ছে। দিঘা, মন্দারমণি বা তাজপুরকে বিশ্বমানের করতে গেলে যে বিশ্বমানের চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয়, তা বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলেন। পরিবর্তনের নামে যারা এতদিন শুধু ভাঁওতাবাজি করেছে, তাদের গালে চড় কষিয়ে এবার মেরিন ড্রাইভে বইবে আসল উন্নয়নের হাওয়া।