প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার কালীঘাটে প্রকাশ্য দিবালোকে নজিরবিহীনভাবে অপদস্থ হলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের ঠিক বাইরেই তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ছোড়া হয়, যা সরাসরি তাঁর মাথায় গিয়ে আছড়ে পড়ে। ক্ষমতা হারানোর পর জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া তৃণমূলের দম্ভের ওপর এটি আমজনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ বলেই দাবি করছে বর্তমান রাজ্যের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আজ ঘটনাটি ঘটেছে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির একেবারে ঢিলছোড়া দূরত্বে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, কুণাল ঘোষ সেখানে পৌঁছানো মাত্রই স্থানীয় কিছু ক্ষুব্ধ যুবক আচমকা তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুড়তে শুরু করেন। নিখুঁত নিশানায় একটি ডিম সরাসরি তৃণমূল নেতার মাথায় লাগে। মুহূর্তের মধ্যে পচা ডিমের তীব্র দুর্গন্ধে এবং অপমানে সেখানে এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরাও কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন।

ডিমের ঘা খেয়ে এবং প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে বেইজ্জত হয়ে মেজাজ হারান কুণাল ঘোষ। নিজের দলের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আড়াল করতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে দায় চাপাতে শুরু করেন পুলিশ প্রশাসনের ওপর। তাঁর অভিযোগ, আক্রমণকারীরা যখন ডিম হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন পুলিশ সেখানে নীরব দর্শক হয়ে তামাশা দেখছিল। বিজেপি শিবিরের পাল্টা দাবি, কুণাল ঘোষ যতই গলা উঁচিয়ে হুঙ্কার দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, তাঁর চোখে-মুখে আজ ক্ষমতা হারানোর এবং জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার স্পষ্ট ছটফটানি ও ভয় ফুটে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা অপশাসনের কারণে জনগণের মনে যে তীব্র ক্ষোভ জমেছিল, আজ সেটাই রাজপথে আছড়ে পড়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তৃণমূলকে তীব্র খোঁচা দিয়েছে। বিজেপির দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। যারা একসময় বাংলাকে লুটেপুটে খেয়েছে, আজ ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার পরেও তাদের অহংকার কমেনি। বাংলার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলেই এখন এই নেতাদের যোগ্য জবাব দিচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে কড়া আইন-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। কিন্তু জনমানসে জমে থাকা তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভকে পুলিশ দিয়ে আটকে রাখা যায় না। কুণাল ঘোষের মাথায় ডিম পড়া আসলে বাংলার বুক থেকে তৃণমূলের প্রাসঙ্গিকতা সম্পূর্ণ মুছে যাওয়ারই প্রতীক।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, কালীঘাটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষের এই ‘ডিম-অভিষেক’-এর পর দলের বাকি নেতারাও এখন আমজনতার মুখোমুখি হতে রীতিমতো আতঙ্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিল যে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলায় এখন তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি পুরোপুরি শূন্য হয়ে গেছে।