প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কয়লা এবং বালির পর এবার খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রেই বেআইনি মাটি কাটার বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এলো। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায় এবং স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সরকারি মাটি চুরির লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)-এর এই লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের অন্তর্গত কালীতলা আশুতি থানায় এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জমা দিয়ে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) রুজু করার আর্জি জানিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা।
বিজেপির দায়ের করা এই অভিযোগে মূল কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পিএ সুমিত রায়কে। এছাড়াও বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল সহ মোট ২৩ জনের নাম রয়েছে অভিযোগে। অভিযোগকারীর দাবি, ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের জোকা মেট্রো কারশেডের পাশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)-র সিল করে রাখা ১৬৩ বিঘা সরকারি জমি থেকে নির্বিচারে মাটি লোপাট করা হয়েছে। বিজেপি নেতার অভিযোগ, ২০১৭ থেকে শুরু করে ২০২২-২৩ সালের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মূল্যবান উপরিভাগের মাটি কেটে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি! নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে ওই এলাকায় প্রায় ১০০ থেকে ১১৫ ফুট গভীর মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে, যার ফলে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক ধস নামতে পারে বলে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস কেবল অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হননি, নিজের দাবির সপক্ষে বিগত কয়েক বছরের উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট চিত্র (Satellite Images) পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। মহাকাশ থেকে নেওয়া ওই চিত্রে স্পষ্ট ধরা পড়েছে, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে ওই নির্দিষ্ট জমির মাটি উধাও করা হয়েছে।বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে এখন দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তাই চোর যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসন এই হাই-প্রোফাইল দুর্নীতির অভিযোগে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
(বিঃদ্রঃ: এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।)