প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যুবভারতীতে ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম অব্যবস্থার জট এবার আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছাল। শতদ্রু দত্তর দাবি অনুযায়ী, যুবভারতীতে এসে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস যে প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন, তা এবার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অফিসিয়াল মেইলে আছড়ে পড়েছে। স্বয়ং মেসির অ্যাডভাইজারের পাঠানো একটি ই-মেলে তৎকালীন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা।
শতদ্রু দত্তর দাবি অনুযায়ী, মেসির টিমের পাঠানো এই অফিশিয়াল মেইলে স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোনো নিয়মকানুন বা প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে, স্রেফ ছবি তোলার লোভে মাঠে ঢুকে মেসির ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত করেছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বিশ্বফুটবলের মহানায়কের কোমর ও কাঁধে হাত দিয়ে জোর করে সেলফি তোলার যে সস্তা মানসিকতা দেখানো হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক স্তরে চরম শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেই দাবি করা হয়েছে ওই মেইলে।মেসির মতো বিশ্বতারকার জন্য যেখানে ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তার কঠোর প্রোটোকল ছিল, সেখানে মন্ত্রীর অঙ্গুলিহেলনে মাঠে কীভাবে ১৫০-২০০ জন ভুয়ো পাসধারী এবং জনা চল্লিশেক ক্যামেরাম্যান ঢুকে পড়ল, সেই প্রশ্নই তোলা হয়েছে মেইলে। অভিযোগ, বিগত দিনে পুলিশ আইনের রক্ষক না হয়ে নেতার ‘খিদমতগার’ হিসেবে কাজ করায় এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। যার ফলে নিরাপত্তার তীব্র অভাব বোধ করে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন স্বয়ং এলএম১০ (LM10)।
শতদ্রু বাবুর দাবি, মেসির টিমের মেইল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে যুবভারতীর এই চরম বিশৃঙ্খলার পেছনে আয়োজকদের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা হাত ছিল না। ভারতের বাকি তিনটি শহরে অনুষ্ঠান সফল হলেও, কলকাতায় তৎকালীন ক্ষমতার ‘হাইজেক’ সংস্কৃতির কারণে এটি ভেস্তে যায়। এমনকি ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে ২২ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাস একাই গায়ের জোরে হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শতদ্রু দত্ত। পুলিশ তিন-তিনবার নোটিস পাঠালেও ‘অসুস্থতার’ বাহানা দিয়ে এতদিন হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। তবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা গড়ানোর পর এবং মেসির টিমের এই ই-মেলের দাবিতে অরূপ বিশ্বাসের আইনি অস্বস্তি বহুগুণ বেড়ে গেল।
যদিও অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরণের কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে এবং আইনি পথেই তিনি এর মোকাবিলা করবেন।