প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জ্বলতে থাকা উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে এবার স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধানের ঐতিহাসিক ইঙ্গিত মিলল। আজ, ১৮ জুন, নতুন বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে মহামান্য রাজ্যপাল আরএন রবি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দার্জিলিং পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত গোর্খাল্যান্ড দাবি ও পাহাড়ের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে সব পক্ষের (Stakeholders) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান খুঁজবে নতুন বিজেপি সরকার। রাজ্যপালের এই ঐতিহাসিক ঘোষণা বুঝিয়ে দিয়েছে, উত্তরবঙ্গকে আর অবহেলা বা দমন-পীড়নের রাজনীতিতে আটকে রাখা হবে না, বরং আলোচনার টেবিলে বসেই পাহাড়ের মানুষের আবেগের মর্যাদা দেওয়া হবে।
ভাষণে সরাসরি নাম না নিলেও, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে পাহাড়ের আন্দোলনকে যেভাবে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে দমন করার অভিযোগ উঠেছিল এবং পাহাড়ের স্বায়ত্তশাসিত বোর্ড বা জিটিএ (GTA) নিয়ে যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তার দিকেই ছিল রাজ্যপালের পরোক্ষ ইঙ্গিত। বিগত এক দশকে পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, পাহাড়ের মানুষের মূল রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে বরাবরই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। উল্টে আন্দোলনের নামে পাহাড়ের পরিবেশ বারেবারে উত্তপ্ত হয়েছে। রাজ্যপাল আজ স্পষ্ট করেছেন, নতুন সরকার বুলেটে নয়, শান্তিতে বিশ্বাসী।গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-কে যেভাবে বিগত জমানায় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার এবং সেখানে দুর্নীতির পাহাড় তৈরি করার অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ছিল। রাজ্যপাল বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবার সব পক্ষের সাথে বসে এক স্বচ্ছ ও স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটবে কেন্দ্র ও রাজ্য।
রাজ্যপাল তাঁর বাজেট বক্তৃতায় পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মূলত এই তিনটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন। কেন্দ্র, রাজ্য এবং পাহাড়ের সমস্ত রাজনৈতিক দল ও স্টেকহোল্ডারদের একসাথে বসিয়ে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান (SPS) সুনিশ্চিত করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। শুধু রাজনৈতিক সমাধানই নয়, পাহাড় সহ গোটা উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার ভোলবদল করতে সেখানে একটি বিশ্বমানের আইআইটি (IIT) স্থাপন করা হবে। পাহাড়ের অর্থনীতির মূল ভিত্তি পর্যটন ও চা শিল্পকে চাঙ্গা করতে বিশেষ প্যাকেজ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করছে নতুন প্রশাসন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যপালের এই ভাষণ আসলে পাহাড়ের রাজনীতিতে এক নতুন মোড়। লোকসভা নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ বারেবারে বিজেপি-র ওপর ভরসা রেখেছেন, আর এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হতেই পাহাড়ের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে রাজ্যপালের এই ইতিবাচক বার্তা উত্তরবঙ্গের মানুষের মনে এক বিরাট ভরসা জোগাল। পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলিও রাজ্যপালের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছে।