প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলার জল এবার গড়াল খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায়। ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস কিংবা কালীঘাটের পার্টি অফিসের পর, এবার রাজ্য গোয়েন্দা দফতর (CID)-র নজরে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্দরমহল। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে কালীঘাটের ২৯/ডি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটে হানা দেয় সিআইডি-র একটি বিশেষ দল। স্থানীয় সূত্রের খবর, এই ফ্ল্যাটটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া (বোন) থাকেন। গত মে মাসে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির তদন্তে যে ব্যাপক গতি এসেছে, এই হানা তারই বড় প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পার্টি অফিসের পর, এবার ঠিক তার কাছাকাছি ২৯/ডি ঠিকানার ফ্ল্যাটে পৌঁছাল সিআইডি। বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল করে স্পিকারের কাছে ভুয়ো নথি জমা দেওয়ার যে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল, তার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি। ক্ষমতা হারানোর পর একের পর এক দুর্নীতির ফাইল খোলায় প্রাক্তন শাসক শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন চরম অস্বস্তিতে। একদিকে যখন মমতাপন্থী ৫ বিধায়ক রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় গোপন বৈঠক করছেন, ঠিক তখনই এই অভিযানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল করার যে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তা রাজ্য রাজনীতিতে ‘সই জালিয়াতি মামলা’ নামে পরিচিত। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই জালিয়াতির মূল নকশা এবং প্রভাবশালী যোগসূত্রগুলি কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিটের অন্দরেই লুকিয়ে রয়েছে। এর আগে সিআইডি এই মামলার অংশ হিসেবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে একাধিক হার্ডডিস্ক এবং ডিজিটাল নথি বাজেয়াপ্ত করেছিল। সেখান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আজ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ের দরজায় গোয়েন্দারা কড়া নেড়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকে এই তল্লাশি অভিযানকে স্বাগত জানানো হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, “আইন সবার জন্য সমান। এতদিন যারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে পুলিশ-প্রশাসনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করত, আজ তারা ক্ষমতাচ্যুত! জনগণের সরকার আসার পর পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। ভাইপো থেকে শুরু করে জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা সমস্ত রাঘববোয়ালদের এবার আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই যেভাবে তৃণমূলের একের পর এক প্রভাবশালী ডেরায় সিআইডি হানা দিচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে আইনি সাঁড়াশী অভিযানের মুখে পড়েছে দলটি। একদিকে দলের অন্দরে তীব্র ভাঙন ও বিদ্রোহ, অন্যদিকে জালিয়াতি মামলায় সিআইডি-র এই ঝাঁঝালো অ্যাকশন—সব মিলিয়ে কালীঘাটের রাজনৈতিক দাপট এখন খাদের কিনারায়। তবে তৃণমূল শিবিরের একাংশের দাবি, এই তদন্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসামূলক।