প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল এবার আরও স্পষ্ট আকার নিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং উত্তর ২৪ পরগনার প্রাক্তন জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু) এবার পা বাড়ালেন বিদ্রোহী শিবিরে, এমনটাই জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। মঙ্গলবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন জ্যোতিপ্রিয়বাবু। এই সাক্ষাতের পরেই স্পষ্ট হয়ে গেল, তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। রেশন দুর্নীতি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন জেল খাটার পর সদ্য জামিন পাওয়া এই নেতার পরবর্তী পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ১৯ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূলের নবগঠিত জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যপদ সহ যাবতীয় দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই সময় পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেছিলেন— রক্তে শর্করার মাত্রা ৩৫০ পার করেছে এবং তিনি গুরুতর কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি দলীয় দায়িত্ব থেকে সরছেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের মতে, সেই পদত্যাগ ছিল আসলে মূল নেতৃত্ব থেকে দূরত্ব বাড়ানোর কৌশল। পদত্যাগের ঠিক চার দিনের মাথায়, আজ বিধানসভায় এসে নতুন বিরোধী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করায় জ্যোতিপ্রিয়বাবুর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাধিক বিধায়ক ইতিমধ্যেই মূল দল থেকে আলাদা অবস্থান নিয়েছেন। বিধানসভার স্পিকারও তাঁদের আলাদা গোষ্ঠী তথা বিরোধী দলের স্বীকৃতি দিয়েছেন।শুধু রাজ্যেই নয়, দিল্লিতেও লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে দলের বেশ কিছু সাংসদ সমান্তরালভাবে চলছেন বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো একজন প্রতিষ্ঠাকালীন নেতার দলীয় পদত্যাগ এবং বিদ্রোহীদের সাথে সাক্ষাৎ বর্তমান বিরোধী শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে।

বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে, পূর্বতন জমানার দুর্নীতিই দলের এই অবস্থার জন্য দায়ী। রেশন দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে গ্রেফতার হওয়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে দীর্ঘদিন জেলে কাটাতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন।১৯৯৮ সাল থেকে যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন, সেই ‘বালু’র এই পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনীতিতে মূল সংগঠনের শক্তিকে আরও ক্ষয়িষ্ণু করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।