প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম বা গোডাউন ধসে পড়ার ঘটনায় অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা (KMC) এলাকায় সমস্ত বাণিজ্যিক এবং জলাশয় ভরাট করে হওয়া নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একই সাথে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে পাস হওয়া সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশা এখন রাজ্য সরকারের স্ক্যানারে রয়েছে এবং সেগুলির উপর একটি বিশেষ অডিট চালানো হবে।

তারাতলার হাইড রোডে ব্রেসব্রিজ ট্রান্সপোর্ট ডিপোর কাছে ভেঙে পড়া গুদামটির প্রাথমিক তদন্তের পর কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, ভবনটির নকশায় বড়সড় ত্রুটি ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি এই বিল্ডিং প্ল্যানটি অনুমোদন পেয়েছিল। অর্থাৎ, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে, তৃণমূল জমানায় এই নকশা পাস করানো হয়। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “আমাদের সরকার আসার আগে যেসব প্ল্যান অনুমোদন হয়েছে, সেগুলির সবকটি খতিয়ে দেখা হবে”।

রাজ্যের মুখ্যসচিবের (Chief Secretary) নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ অডিট টিম গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কমিটিতে কলকাতা পুরসভা, পূর্ত দফতর (PWD), দমকল, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ এবং কেএমডিএ (KMDA)-র প্রতিনিধিরা থাকবেন। প্রয়োজনে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট এবং মেট্রো রেলের আধিকারিকদেরও এই অডিটে শামিল করা হবে। এই টিম প্রতিটি নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের নকশা ও অন-সাইট নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেবে। রিপোর্ট সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত প্রমাণিত হলে তবেই আগামী ১ অগস্ট থেকে পুনরায় কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত সমস্ত ধরণের বাণিজ্যিক নির্মাণ এবং বিশেষ করে জলাশয় বা জলাজমি বুঝিয়ে করা কনস্ট্রাকশনের ওপর কার্যকর হবে। তবে হাসপাতাল, মেট্রো রেল, দমকল এবং সেনাবাহিনীর জরুরি নির্মাণকাজ এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। কলকাতার পাশাপাশি আগামী দিনে হাওড়া ও বিধাননগর পুরসভা এলাকাতেও এই একই ধরণের কড়া অডিট চালানো হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে তারাতলার ওই ৩ তলা নির্মীয়মাণ গুদামের লোহার বিম ও ছাদ ঢালাইয়ের সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২১ জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সেনা, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF), দমকল এবং কলকাতা পুলিশ যৌথভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নবান্নে জরুরি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। এই গোটা ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্য সরকারের তরফে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।