প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতা হাইকোর্টে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়। শালবনি জমি দুর্নীতি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। শুনানির সময় বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের সিঙ্গল বেঞ্চ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পর্যবেক্ষণ জানায়। আদালতের সাফ বক্তব্য, “আপনাকে অযথা ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। আপনার বিরুদ্ধে অপরাধের একাধিক প্রমাণ রয়েছে।”

আদালতে মামলাটির শুনানি চলাকালীন রাজ্যের তরফে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। সরকারি আইনজীবী জানান, প্রায় ৩০০টি জমির ভুয়ো ও জাল নথি তৈরি করে বেআইনিভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ইতিমধ্যেই জাল স্ট্যাম্প, ডিড এবং জাল দলিল উদ্ধার করা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তুলে তা সুমিত রায়ের কাছে পাঠানো হতো।

শুনানি চলাকালীন সুমিত রায়ের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, “আমার মক্কেল তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে চান। আমরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি হলফনামা আকারে আদালতে পেশ করতে প্রস্তুত। পুলিশ সেই হলফনামা খতিয়ে দেখুক।” এর জবাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মন্তব্য করেন, “অভিযুক্তের হলফনামার ভিত্তিতে যদি তদন্ত করতে হয়, তাহলে তো হয়েই গেল!” বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বাইরে থাকা সম্পত্তি বা আর্থিক লেনদেনের হদিস জানতে হলে পুলিশকে অবশ্যই অভিযুক্তকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

আদালতে সুমিতের আইনজীবী দাবি করেন, কোনো ব্যক্তির জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এই যুক্তির পাল্টা জবাবে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “কোনো অপরাধ বা বেআইনি কাজ দেখতে পেলে কি পুলিশে অভিযোগ জানাতে পারব না?”

কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত সুমিত রায়ের আগাম জামিন বা কোনো রকম অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষার আবেদন মঞ্জুর করেনি। আগামী সোমবারের মধ্যে সুমিত রায়কে তাঁর সমস্ত আর্থিক লেনদেন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ হলফনামা আকারে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জেরা করার সময়ই সুমিত রায়ের নাম প্রথম সামনে আসে। এর আগে শালবনি থানার পুলিশ সুমিতের খোঁজে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি চালালেও তাঁর খোঁজ মেলেনি, যার পর তাঁর বিরুদ্ধে ‘লুক আউট সার্কুলার’ এবং আদালতের তরফে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। নতুন করে ডেবরা থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুমিত রায়ের আগামী সোমবারের পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।