প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মাত্র কয়েকদিন আগেই রেজিনগরের মঞ্চ থেকে বুক চিতিয়ে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামলে স্যাঁটাভাঙা মার মারব!” অথচ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই মারকুটে মেজাজ উধাও। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান এবং নিজের বাড়িতে জোড়া নোটিস পৌঁছাতেই কার্যত ব্যাকফুটে চলে গেলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর গলা শোনা গেলেও, বয়ানে স্পষ্ট ধরা পড়ল সুর নরমের ইঙ্গিত। হঠাৎ কেন এই বয়ান বদল? যে নেতার গলায় কয়েকদিন আগে পুলিশ প্রশাসনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সুর শোনা গিয়েছিল, মঙ্গলবার তাঁর গলাতেই শোনা গেল আইনি বাধ্যবাধকতার কথা। সুর নরম করে হুমায়ুন কবীর সাফাই দেওয়ার সুরে বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো কথাই বলিনি। ৪ মে-র পর এলাকায় যে সমস্ত নতুন বিজেপি নেতারা এসে অশান্তি ছড়াচ্ছিল, আমার লড়াই ছিল কেবলই তাদের বিরুদ্ধে।” অর্থাৎ, নিজের করা চরম উস্কানিমূলক মন্তব্যকে এখন ‘রাজনৈতিক আত্মরক্ষা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বিধায়ক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঝরাতে নিজের ৩ খাস শাগরেদের গ্রেফতারি এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) জামিন অযোগ্য ধারায় নিজের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হওয়াতেই প্রমাদ গুনেছেন নওদার বিধায়ক। আইন যে এবার কড়া হাতে তাঁর টুঁটি চেপে ধরতে চলেছে, তা বুঝতে পেরেছেন এই পোড়খাওয়া নেতা। যদিও জনসমক্ষে নিজের দাপট বজায় রাখতে তিনি দাবি করেছেন, “আমি গ্রেফতারিকে ভয় পাই না। নোটিস এসেছে, আমি ৩ জুলাই নিজেই আইন মেনে থানায় যাব এবং গণতান্ত্রিকভাবে এর মোকাবিলা করব।”

মুখ্যমন্ত্রীর একটিমাত্র হুঁশিয়ারিতেই যেভাবে মুর্শিদাবাদের এই দাপুটে নেতার হুঙ্কার কার্যত ‘মিনমিন’-এ পরিণত হলো, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।