প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের সকালে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় এক অভূতপূর্ব ও নতুন ইতিহাস তৈরি হলো। স্বাধীনতার দীর্ঘ দশক পর এই প্রথমবার লালকেল্লার অফিশিয়াল স্বাধীনতা দিবসের সরকারি প্রটোকলে বেজে উঠল ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’। আর এই যুগান্তকারী মুহূর্তকে সাক্ষী রেখে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর ১৩তম প্রথাগত ভাষণ দেওয়ার সময় একগুচ্ছ বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লালকেল্লার মঞ্চ থেকে দেশবাসীকে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগঘন ও শক্তিশালী ভাষায় বলেন, “আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো। আজ বন্দে মাতরমের এই সুর প্রত্যেকটি ভারতীয়র হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করছে। আজ দেশের প্রতিটি ঘরে তেরঙা এবং প্রতিটি মনে তেরঙা বিরাজ করছে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বন্দে মাতরম বাজানোর ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি ভারতের এগিয়ে যাওয়ার খতিয়ান তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৬ সালটি হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ গানটির ১৫০তম বর্ষপূর্তি। স্বাধীনতা আন্দোলনে যে গান বিপ্লবীদের শক্তি জুগিয়েছিল, তাকে লালকেল্লার প্রটোকলে এনে দেশের আত্মমর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আজ বন্দে মাতরমের ধ্বনি প্রতিটি হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এবং দেশবাসী নতুন উৎসাহ, উদ্দীপনা ও নতুন সংকল্প নিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেশের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়েও অত্যন্ত সংবেদনশীল বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া বন্যা ও ভূমিধসের শিকার হওয়া পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিগত কয়েক দিনে দেশের কিছু অংশ মারাত্মক বন্যা ও ধসের সম্মুখীন হয়েছে। বহু পরিবার এতে ক্ষতিগ্রস্ত। আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করছি যে, এই বিপদের দিনে গোটা দেশ এবং সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

ঐতিহাসিক লালকেল্লার জ্ঞানপথের সামনে বসা ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (NCC) এবং ‘মাই ভারত’ (MY Bharat) প্ল্যাটফর্মের প্রায় ২,৫০০ জন তরুণ-তরুণী একসঙ্গে নির্দিষ্ট রঙের পোশাকে বসে দেবনাগরী হরফে “वंदे मातरम्” শব্দটি ফুটিয়ে তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর তাঁরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় গান পরিবেশন করেন।