প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরে নাবালিকা ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। এবার চরম উত্তেজনার আবহে আইন নিজের হাতে তুলে নিল ক্ষুব্ধ জনতা। নাবালিকা খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দেয় উন্মত্ত গ্রামবাসীরা। গণপ্রহারের জেরে গুরুতর জখম হওয়া ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্যপুর হাটের পুকুর থেকে ১২ বছরের নাবালিকার বিকৃত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই অপরাধীদের খোঁজে এলাকা চষে বেড়াচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই সময় আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক স্থানীয় ব্যক্তিকে ওই নৃশংস কাণ্ডের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করেন গ্রামবাসীরা। এরপরই শয়ে শয়ে মানুষ ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে। কোনও কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই শুরু হয় গণপ্রহার। লাঠি, বাঁশ ও কিল-চড়-লাথি মেরে রক্তাক্ত করে দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে।গণপিটুনির খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। দ্রুত তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর চোট এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তির আসল পরিচয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নাবালিকা খুনের ঘটনাটি যেমন অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং পুলিশ তার তদন্ত করছে, তেমনই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলাও চরম অপরাধ। এই গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় ভিডিও ক্লিপ পরীক্ষা করা হচ্ছে। নতুন করে গণহিংসা এড়াতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।