প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) সকালে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বারুইপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর চার সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। কালীঘাটে পুলিশি কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হতেই তাঁরা রওনা দেন। এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন তৃণমূলের জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক তথা রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল এবং অনিতা কর।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, দলীয় নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারুইপুর যাওয়া আটকাতে রবিবার রাত থেকেই তাঁর কালীঘাটের বাসভবন সংলগ্ন এলাকা ভারী পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছিল। সকালে বারুইপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন সাংসদ দোলা সেন। তিনি বলেন, “কালীঘাটে অযথা বিশাল পুলিশ ও প্রশাসন মোতায়েন করা হয়েছে। নেত্রী যেন বারুইপুর না যেতে পারেন, তার জন্যই এই দেউলিয়া চাল। বাংলায় এ যেন এক ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে।” একই সুরে সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল একে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে তীব্র নিন্দা জানান।
রবিবার দুপুর থেকেই বারুইপুরের সূর্যপুর হাট এলাকায় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। উত্তেজিত জনতা রাস্তা ও শিয়ালদহ-নামখানা লাইনে ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়, এমনকি এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিও দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই সোনারপুর, নরেন্দ্রপুর ও বারুইপুর লাগোয়া একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করেছে। পাশাপাশি, ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, রবিবার রাতের পর আজ সকালেও তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে। রাতভর জেরার পর এই ধর্ষণ ও খুনের মামলায় আরও ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ জনে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে আটকে রাখা হয়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে শোকার্ত পরিবারের সাথে দেখা করার পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবগঠিত বিজেপি সরকারের নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে পাল্টা সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির।