প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আগামীকাল সোমবার থেকেই এক নজিরবিহীন ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে চলেছে গোটা রাজ্য। প্রশাসন সূত্রের খবর, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে এবং সংগঠিত অপরাধের কোমর ভেঙে দিতে আগামীকাল থেকেই বলবৎ হচ্ছে বহুল চর্চিত ‘গুন্ডা দমন সংক্রান্ত জোড়া আইন’। এর পর থেকে রাজ্যের কোথাও সামান্যতম হিংসা বা অশান্তির ছক কষা হলেই আর রেয়াত করা হবে না কাউকে; সরাসরি অ্যাকশনে নামবে পুলিশ। একই সঙ্গে আন্দোলনের নামে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে, অভিযুক্তের নিজস্ব বাড়ি-ঘর ক্রোক ও নিলাম করার মতো চরম পদক্ষেপের ছাড়পত্র পেয়ে গেল প্রশাসন।

প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রের খবর, নতুন এই আইনের আওতায় পুলিশকে নজিরবিহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় গোলমাল পাকানোর চেষ্টা চলছে— এমন আগাম খবর বা সন্দেহ থাকলে অপরাধ ঘটার আগেই ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ধারায় অভিযুক্তকে সোজা জেলে পোরা যাবে। অপরাধের গুরুত্ব বুঝে কোনো চার্জশিট বা ট্রায়াল ছাড়াই চিহ্নিত সমাজবিরোধীদের সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত জেলহাজতে আটকে রাখার কড়া সংস্থান রয়েছে এই আইনে। এছাড়া অভ্যাসগত অপরাধীদের নির্দিষ্ট জেলা থেকে বহিষ্কার (এক্সটার্নমেন্ট) করার আইনি অধিকারও এখন জেলা শাসক ও পুলিশ প্রশাসনের হাতে থাকবে।

এই আইনের অন্যতম সবচেয়ে বড় ও কড়া দিকটি হলো সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি পূরণ। রাজনৈতিক আন্দোলন, ধর্মঘট বা যেকোনো ধরনের হিংসাত্মক ঘটনায় যদি সাধারণ মানুষের গাড়ি, দোকান কিংবা সরকারি বাস বা কোনো দফতরের ক্ষতি করা হয়, তবে তার আর্থিক মূল্যায়ন করতে একটি বিশেষ ‘ক্লেমস কমিশন’ গঠন করা হবে। ওই কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে তোলা হবে। এমনকি যারা এই ধরনের অপরাধীদের নিজেদের আশ্রয়ে লুকিয়ে রাখবে, তাদেরও সমপরিমাণ শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

নবান্ন সূত্রের দাবি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, জমি মাফিয়াদের দাপট এবং উৎসব বা নির্বাচনের মরশুমে রাজনৈতিক হিংসা চিরতরে বন্ধ করতেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আইন আনা হলেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশ ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে বিনা বিচারে আটকে রাখার ধারাটি নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, সাধারণ নাগরিকদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই; আইন মেনে চলা সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকবচ হিসেবেই কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা।