প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের পর নতুন সরকার গঠন হলেও, রাজনৈতিক সমীকরণের চোরাস্রোত এবার একেবারে প্রকাশ্যে চলে এল। দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ আর সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল জুড়ে চলা তুমুল তরজা ধামাচাপা দিতে এবার ময়দানে নামতে হলো স্বয়ং শীর্ষ নেতৃত্বকে। নিজের চেনা দুর্গ পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদার এক বিশেষ দলীয় বৈঠক থেকে নিচুতলার কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো— লক্ষ্মণরেখা পার করলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে!
সম্প্রতি ঘাসফুল শিবিরের ৩ জন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ আচমকাই শিবির বদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। শুধু যোগদানই নয়, তাঁদের তড়িঘড়ি দিল্লির টিকিট দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হতেই দলের আদি ও পুরোনো কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। তাঁদের এই ক্ষোভের মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠেন খোদ দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, যাঁর হাত ধরে এই হেভিওয়েট দলবদল সম্পন্ন হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ফেসবুকে ও এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে দলের শীর্ষ নেতাকে উদ্দেশ্য করে রীতিমতো কুরুচিকর আক্রমণ ও ট্রোলিং শুরু হয়ে যায়।
দলের অভ্যন্তরীণ এই কাদা ছোড়াছুড়ি কোনোভাবেই মেনে নেননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মেচেদার ত্রিস্তরীয় সাংগঠনিক বৈঠক থেকে তিনি অত্যন্ত গম্ভীর ও কড়া মেজাজে দলের ক্ষুব্ধ কর্মীদের শান্ত হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেন। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, “শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো আজেবাজে পোস্ট বা গালাগালি একদম দেওয়া যাবে না।”
তিনি সাফ বুঝিয়ে দেন, দলের আগামী দিনের বৃহত্তর জয়ের স্বার্থে এবং কিছু রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে অনেক সময় কিছু বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পুরোনো ক্ষোভ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সুরে সুর মিলিয়ে দলের অন্য শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদারও একতার ওপর জোর দেন।