প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতা পুরসভার (KMC) নির্বাচনী ইতিহাসে সবথেকে বড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটতে চলেছে। তিলোত্তমার ভোটার ও জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করতে এক ধাক্কায় বদলে ফেলা হচ্ছে পুরসভার সামগ্রিক মানচিত্র। কলকাতা পুরসভার বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে এবার এক লপ্তে করা হচ্ছে ২০০! নবান্নের সবুজ সংকেত মেলার পর এবার দ্রুত গতিতে ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) জন্য উচ্চপর্যায়ের ‘জোড়া কমিটি’ গঠন করে দিলেন পুরপ্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ডগুলির মধ্যে ভোটার সংখ্যার বিপুল ফারাক রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন এলাকা বা বেহালা-যাদবপুরের ওয়ার্ডগুলিতে জনসংখ্যার চাপ মারাত্মক। এই অসামঞ্জস্য দূর করতেই নতুন ৫৬টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে মোট ২০০টি ওয়ার্ড করার চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, প্রতিটি ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা যেন গড়ে ১৬,০০০ থেকে ২৫,০০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়।

ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানা নিখুঁতভাবে পুনর্বিন্যাস করতে পুরপ্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে ১০ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি (CDC) গঠন করেছেন, যার নেতৃত্বে থাকছেন বিশেষ পুর-কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য। এর পাশাপাশি, প্রতিটি বরোর জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক পৃথক বরো ডিলিমিটেশন কমিটি (BDC)। এই কমিটিগুলি সরাসরি মাটি কামড়ে নেমে ওয়ার্ডের সীমানা এবং বাসিন্দাদের সংখ্যার স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা করবে।

হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই তদন্তকারী দলগুলির কাছে। পুরপ্রশাসকের কড়া নির্দেশ, আগামী ২৭ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যেই এই বিশাল সমীক্ষা শেষ করে চূড়ান্ত খসড়া বা রিপোর্ট জমা দিতে হবে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, জুলাইয়ের শেষে এই রিপোর্ট জমা পড়ার পর, আগামী ডিসেম্বর মাসেই নতুন ২০০টি ওয়ার্ডের ওপর ভিত্তি করে কলকাতার পরবর্তী মেগা পুরভোট সম্পন্ন হতে পারে।