প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পরবর্তী নজিরবিহীন তাণ্ডব এবং নির্দোষ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় এবার সবথেকে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ প্রশাসন। রবিবার গভীর রাতে এক রুদ্ধশ্বাস যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হলো এলাকার এক হেভিওয়েট রাজনৈতিক মুখকে। ধৃতের নাম লাহেক আলি, যিনি সদ্য সমাপ্ত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্টের মনোনীত সিপিআইএম (CPIM) প্রার্থী ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গত ৫ জুলাই সূর্যপুরের ঘটনার পর রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল গোটা এলাকা। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর থেকে শুরু করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছে পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দেওয়া, পুলিশের ওপর হামলায় প্ররোচনা জোগানো এবং এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রে এই বাম নেতার সরাসরি ভূমিকা ছিল।ধৃত লাহেক আলির বিরুদ্ধে খুন, দাঙ্গা ছড়ানো, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর প্রায় ২০টি গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই নিয়ে বারুইপুরের সেই রবিবারের অশান্তির ঘটনায় ধৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৮। গভীর রাতে গ্রেফতারের পর ধৃত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরাসরি কলকাতার ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নির্বাচন মেটার পরপরই নিজেদের হেভিওয়েট প্রার্থীর এই আকস্মিক গ্রেফতারিতে স্বভাবতই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে আলিমুদ্দিন। সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুজন চক্রবর্তী এই পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। বাম শিবিরের দাবি, মূল ঘটনা এবং পুলিশি ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই রাজ্য প্রশাসন বিরোধীদের এভাবে মিথ্যা মামলায় নিশানা করছে।
আজ, সোমবার ধৃত সিপিএম নেতাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালত শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ দেয় এবং এই গ্রেফতারির জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।