প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় সরকার বদলের পর একের পর এক অভাবনীয় রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আসছে। এবার এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গত্যাগী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লিখিয়ে বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন তিনি। আর সেই নয়া পদ পাওয়ার পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খোদ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন অনুব্রত। অনুব্রতর এই আচমকা ‘শুভেন্দু-স্তুতি’র নেপথ্যে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

রবিবার বোলপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত মণ্ডল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অত্যন্ত কর্মঠ এবং ‘লড়াকু ছেলে’ বলে অভিহিত করেন। রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে শুভেন্দুর রাজনৈতিক সফরকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী খুব লড়াকু ছেলে। কংগ্রেস যখন করত, তখনও লড়াকু ছিল। তৃণমূলে থেকেও নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে ও রাজনীতিটা শিখেছে। কর্মঠ ছেলে। কাজের দৌলতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওকে পাঁচটা জেলার অবজারভার করেছিলেন, এমনি এমনি করেননি।” শুধু শুভেন্দুর প্রশংসাই নয়, বর্তমান বিজেপি সরকারের ১০০ দিনের কাজ ও অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মতো বিভিন্ন প্রকল্পেরও প্রকাশ্য প্রশংসা শোনা গেছে তাঁর মুখে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পরই অনুব্রত মণ্ডলের বোলপুরের দলীয় কার্যালয় থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে দেওয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও অনুব্রতর দাবি, তাঁর কার্যালয়ে অভিষেকের কোনো ছবি আগে থেকেই ছিল না। তবে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি এখনও সসম্মানে রাখা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের মূল শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতেই অনুব্রত মণ্ডলের এই সুরবদল রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অতীতে যে শুভেন্দু অধিকারীকে অনুব্রত নানা ভাষায় আক্রমণ করতেন, আজ তাঁর মুখেই এই স্তুতি পশ্চিমবঙ্গের আগামী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বড়সড় কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।