প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রথযাত্রা উপলক্ষে ওড়িশার পুরীর পাশাপাশি এবার রাজকীয় সাজে সেজে উঠেছে বাংলার সৈকত শহর দিঘার সুউচ্চ জগন্নাথ মন্দির। রথের রশিতে টান দিতে সকাল থেকেই দিঘায় উপচে পড়েছে হাজার হাজার ভক্তের ঢল। তবে কেবল উৎসবের আলো নয়, আধ্যাত্মিক দিক থেকেও দিঘার এই রথযাত্রার রয়েছে এক গভীর ও বিশেষ তাৎপর্য। সনাতন ধর্মে বলা হয়— গুরুর হাত ধরে, ভক্তির মাধ্যমে তবেই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। আর এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই দিঘার সৈকত সরণিতে একে একে পথ চলা শুরু করেছে তিনটি পবিত্র রথ।

আধ্যাত্মিক যাত্রার সেই গভীর তত্ত্বশাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে দিঘার রথযাত্রার শুরুতেই থাকে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলরামের রথ। আধ্যাত্মিক মতে, বলরাম হলেন স্বয়ং ‘গুরুর প্রতীক’। এরপরই পথ চলে বোন সুভদ্রার রথ, যিনি হলেন ‘ভক্তির প্রতীক’। আর সবার শেষে টান পড়ে খোদ জগন্নাথদেবের রথের রশিতে, যিনি পরম ‘ঈশ্বরের প্রতীক’। এই ক্রমানুসারের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অমোঘ সত্য— মানব জীবনে প্রথমে গুরুর আগমন ঘটে, গুরুর দেখানো পথে মনে ভক্তির উদয় হয় এবং সেই ভক্তির হাত ধরেই মানুষ পরিশেষে পরমেশ্বরের সন্ধান পায়।

প্রতিবারের মতো এ বারও ওড়িশার পুরীর ঐতিহ্য মেনে বিশেষ ধরনের পবিত্র কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি মূল রথ। ভক্তদের জয়ধ্বনি ও হরিনাম সংকীর্তনের মাঝেই দিঘার রাজপথে রাজকীয় ভঙ্গিতে এগিয়ে চলেছে জগন্নাথদেবের প্রধান রথ ‘নন্দীঘোষ’, মহাবলী বলভদ্রের আকাশছোঁয়া রথ ‘তালধ্বজ’ এবং আদরের বোন সুভদ্রার বিশেষ রথ ‘দর্পদলন পদ্মধ্বজ’। এই তিন রথের চাকা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গেই সমুদ্রের গর্জনকে ছাপিয়ে ভক্তদের ভক্তিগীতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা সৈকত নগরী।