প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আগামীকাল থেকে শুরু হতে চলা সংসদের হাই-ভোল্টেজ বাদল অধিবেশনের আগে আজ, ১৯ জুলাই রবিবার দিল্লিতে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল দেশের রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে সদ্য গঠিত হওয়া ‘ন্যাশলালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র উপস্থিতি নিয়ে বৈঠকে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। দলত্যাগী ও বিক্ষুব্ধ সাংসদদের এই নতুন দলকে কেন সরকারিভাবে সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলো, এই প্রশ্ন তুলে বৈঠক বয়কট করে একযোগে প্রতীকী ওয়াকআউট (Walkout) করলেন বিরোধী শিবিরের একাংশ।

বৈঠক সূত্রে খবর, আলোচনার মাঝেই এনসিপিআই (NCPI) দলের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি দেখে তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের অন্যান্য শরিকরা। মহুয়ারা স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, যে দলটির এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বা পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি স্পষ্ট নয়, যাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে মামলা হওয়ার কথা, তাদের কোন যুক্তিতে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আসন দেওয়া হলো? কেন্দ্রের মোদী সরকার এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূল তথা বিরোধী জোট ভাঙার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিতেই এই চাল চেলেছেন বলে সোচ্চার হন বিরোধীরা।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই কড়া আপত্তির পরেই দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এই বৈঠক ঘরের তাপমাত্রা একধাক্কায় চড়ে যায়। প্রতিবাদে মহুয়া মৈত্র সহ বিরোধী জোটের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রতীকী হিসেবে সর্বদল বৈঠক থেকে সাময়িকভাবে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী শিবিরের এই আকস্মিক অনড় মনোভাবের জেরে কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় বৈঠকের কাজ।

অন্যদিকে, এই ওয়াকআউটকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ এনসিপিআই শিবির। কাকলি ঘোষ দস্তিদার পাল্টা দাবি করেছেন, লোকসভার স্পিকার ইতিমধ্যেই তাঁদের ২০ জন সাংসদকে আলাদা আসন বরাদ্দ করেছেন এবং তাঁরা একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেই এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তৃণমূল আসলে ভয় পেয়েছে, কারণ আগামী ২১ জুলাই দিল্লির রাজঘাট থেকেই মমতার সরকারের একাধিক গোপন ‘ফাইল’ ফাঁসের প্রস্তুতি নিয়েছে এনসিপিআই। বাদল অধিবেশন শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগেই যেভাবে দিল্লির অল-পার্টি মিট-এ তৃণমূল বনাম বিক্ষুব্ধ এনসিপিআই তরজা চরম সীমায় পৌঁছাল, তাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা আগামী দিনে যে তুমুল উত্তাল হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।