প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অবশেষে অবসান হলো সব জল্পনার! ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার সংসদীয় কার্যালয় ও পার্টি অফিস ভাঙার মামলায় শেষমেশ কী রায় দিল আদালত, তা জানতে সকাল থেকেই মুখিয়ে ছিল গোটা রাজ্য। রবিবার ছুটির দিনে দুপুর ১:৩০ নাগাদ বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে বসা বিশেষ জরুরি শুনানি শেষে এল সেই মহানির্দেশ। জেলা প্রশাসনের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর মাঝেই এই হাইভোল্টেজ মামলায় তত্ক্ষণাৎ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই আকস্মিক পদক্ষেপে এক নিমেষেই বড়সড় ধাক্কা খেল প্রশাসন।
শনিবার সকাল থেকে যে উচ্ছেদ অভিযান ও ভাঙচুর শুরু হয়েছিল, রবিবারের শুনানির পর সেখানে অবিলম্বে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। আদালত সাফ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমতলার ওই ৫ তলা কার্যালয় বা ভবনটি ভাঙার কাজে প্রশাসন আর এক ইঞ্চিও এগোতে পারবে না বা কোনো নতুন ভাঙচুর চালাতে পারবে না। ৫ তলা এই ভবনটি ঠিক কী নিয়মে এবং কোনো আইনি বৈধতা মেনে তৈরি করা হয়েছিল কি না, তার যাবতীয় রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবিলম্বে আদালতের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাস্টিস রাজা বসু চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন, আগামী দিনগুলিতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অথবা চলতি জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত (যা আগে আসবে) এই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি বহাল থাকবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভবনটির মালিকপক্ষকে ভাঙার আগে নিজেদের বক্তব্য জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থার পক্ষ থেকে দায়ের করা এই জরুরি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে এদিন শুনানি চলে। শুরুতে রাজ্যের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় কিছু সময়ের জন্য শুনানি পিছিয়ে গেলেও, দুপুর দেড়টায় এজলাস বসতেই তৃণমূলের পক্ষে জোরদার সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত এবং অয়ন ভট্টাচার্য।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের দাবি ছিল, আমতলা-বারুইপুর রোডের ওপর অবস্থিত এই ৫ তলা অফিসটির কোনো বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশা অনুমোদিত ছিল না। জমিটি ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে নথিভুক্ত। প্রশাসনের অভিযোগ, শুনানির জন্য গত জুন ও জুলাই মাসে নোটিশ পাঠানো হলেও মালিকপক্ষের কেউ হাজির হননি, যার জেরেই শনিবার সকালে বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় এবং ভবনের সামনের অংশ গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তবে রবিবারের এই হাইভোল্টেজ রায়ের পর আপাতত বড়সড় স্বস্তি পেল তৃণমূল শিবির। আদালতের এই কড়া হস্তক্ষেপের পর প্রশাসন এখন কী আইনি পথ খোঁজে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।