প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা চ্যুত হওয়ার পর এবার তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দীর্ণ তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোটি কোটি টাকার টিকিট বিক্রির এক বিস্ফোরক কেলেঙ্কারি সামনে এল। আর এই রাজনৈতিক বোমাটি অন্য কেউ নন, ফাটালেন ক্ষুব্ধ তৃণমূলেরই চাঁচলের বিধায়ক তথা ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের মালদা জেলা সভাপতি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় মঞ্চ থেকে তাঁর এই আক্রমণের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
রবিবার মালদার চাঁচলের থানাপাড়ায় আয়োজিত একুশে জুলাইয়ের (শহিদ দিবস) এক প্রস্তুতি সভা থেকে রাজ্য রাজনীতি কাঁপানো এই মন্তব্য করেন বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় যে বহুল প্রচারিত ‘নবজোয়ার কর্মসূচি’ করা হয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিল এক বিরাট বাণিজ্যিক চক্র। বিধায়কের সরাসরি অভিযোগ, “এই কর্মসূচির আড়ালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ক্যামাক স্ট্রিট এবং নির্বাচনী উপদেষ্টা সংস্থা I-PAC (আইপ্যাক)-এর গভীর যোগসাজশ ছিল। আর সেই প্রভাব খাটিয়েই গোটা রাজ্যে পঞ্চায়েতের টিকিট চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে।”
বিধায়কের বিস্ফোরক দাবি অনুযায়ী, সে সময়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে আক্ষরিক অর্থেই একটি লাভজনক ‘ব্যবসায়’ পরিণত করা হয়েছিল। যোগ্য ও আজীবন দলের জন্য লড়াই করা কর্মীদের বঞ্চিত করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে টিকিট বিলি করা হয়েছে। শুধু টিকিট দেওয়াই নয়, নির্বাচনের পর কাকে গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘প্রধান’ করা হবে, সেই পদ পাইয়ে দিতেও পর্দার আড়ালে চলেছে দেদার অর্থ লেনদেন। মালদা জেলা জুড়ে পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে একপ্রকার “ডাকাতি” চলেছে বলে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। প্রসূন বাবুর দাবি, এই অন্যায়ের জেরেই একসময় দলের আসন সংখ্যা ২১১ থেকে একধাক্কায় হু হু করে নিচে নেমে গিয়েছিল।
এই তীব্র আক্রমণের পাশাপাশি এক বিরাট হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের পরেই তিনি শান্ত হয়ে বসে থাকবেন না। টিকিট কেনাবেচার সমস্ত গোপন নথি এবং আর্থিক লেনদেনের অকাট্য প্রমাণপত্র তিনি সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে তুলে দেবেন। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আইনজীবী এবং অভিজ্ঞ বিধায়কদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি তুলবেন তিনি।
ক্ষমতা হারিয়ে এমনিতেই ব্যাকফুটে থাকা তৃণমূলের অন্দরে খোদ একজন বিধায়কের মুখে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগে চরম অস্বস্তিতে দল। যদিও এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা আইপ্যাকের (I-PAC) পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলের অস্তিত্বকে আরও বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিল।