প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টানা ২২ দিন দানাপানি ছাড়া অনশন! যন্তর মন্তর থেকে মধ্যরাতে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সফদরজং হাসপাতালের ভিআইপি বেডে শুয়েই এখন জীবন-মরণের সীমান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন ৫৯ বছর বয়সী প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ও পরিবারের টানাপোড়েন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দিল্লি এইমস (AIIMS) এবং সফদরজং হাসপাতালের যৌথ মেডিকেল বোর্ডের পেশ করা স্বাস্থ্য বুলেটিন রীতিমতো কপালে ভাঁজ ফেলেছে চিকিৎসকদের।

মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, ২২ দিন ধরে কঠিন অনশন চালানোর ফলে সোনম ওয়াংচুকের শরীর মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অনশনমঞ্চে থাকার সময়ই তাঁর শরীর থেকে ৯ কেজিরও বেশি ওজন ঝরে গিয়েছে। কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে জানিয়েছেন, তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে টানা অনশনে ওয়াংচুকের শরীরে চরম জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়েছে। এর ফলে তাঁর শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা কিডনি বিকল (Kidney Failure) হওয়ার মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে তাঁর লিভার ও পেশিতে সঞ্চিত ফ্যাট ভেঙে শরীরে মারাত্মক ‘কিটোসিস’ (Ketosis) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রক্ত পরীক্ষায় তাঁর ইউরিনারি কিটোন বডি ১+ থেকে একলাফে বেড়ে ৩+ হয়ে গিয়েছে, যা বিপদের বড় লক্ষণ।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, শরীরের ভেতরে এত বড় বড় সূচক বিগড়ে গেলেও সোনম ওয়াংচুক সম্পূর্ণ সচেতন এবং জ্ঞান রয়েছে তাঁর। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর রক্তচাপ (Blood Pressure), নাড়ির গতি (Pulse Rate) এবং অক্সিজেনের মাত্রা আপাতত স্থিতিশীল সীমার মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু আসল সমস্যা তৈরি হয়েছে চিকিৎসায় তাঁর চরম আপত্তিতে। এইমসের জরুরি বিভাগের অ্যাডিশনাল প্রফেসর ডক্টর অক্ষয় কুমার জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য বারবার শিরায় স্যালাইন (IV Fluids), ওআরএস (ORS) এবং জীবনদায়ী ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো স্যালাইন বা ওষুধ স্পর্শ করবেন না। তিনি হাসপাতাল বেডে শুয়ে কেবল নুন-জল খেয়েই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে ওয়াংচুকের এই শারীরিক পরিস্থিতির মাঝেই ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। সফদরজং হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “হাসপাতালের রিপোর্টের কোনো স্বচ্ছতা নেই। ১৭ জুলাই আমাদের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের করা রিপোর্টে ওঁর পটাশিয়াম লেভেল ছিল ৪.৩, অথচ সরকারি হাসপাতাল দাবি করছে সেটা নাকি কমে ২.৯ হয়ে গেছে!” হাসপাতালের ওই ফ্লোরে যেভাবে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিবারের লোকেদের মোবাইল পর্যন্ত নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে গীতাঞ্জলি বলেন, “ওটা হাসপাতাল কম, মোদী সরকারের তৈরি করা জেলখানা বেশি মনে হচ্ছে!” তিনি ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতাল থেকে সরিয়ে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার আর্জি নিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আপাতত চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে ওয়াংচুককে। তবে যেভাবে তিনি স্যালাইন নিতে অস্বীকার করছেন, তাতে যেকোনো মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থার বড়সড় অবনতি ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না মেডিকেল বোর্ড।