প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়ে এমনিতেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তার ওপর ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ ওলটপালট। এই তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই এবার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসতে চলেছে আজ। প্রধান বিরোধী শিবিরে নাম লেখানোর পর কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে তীব্র উৎকণ্ঠায় গোটা বাংলা। আজ, সোমবার দুপুর ঠিক ৩:০০ টের সময় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা থেকে সরাসরি ফেসবুক লাইভে আসতে চলেছেন এই প্রবীণ নেতা। আর একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচির ঠিক আগে এই ৩টের লাইভ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে কাঁপুনি ধরেছে।

বিরোধী দলের তকমা পাওয়া তৃণমূলের অন্দরের সমস্ত চেনা ছক উল্টে দিয়ে মদন মিত্র গতকালই সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে তাঁর এই ফেসবুক লাইভ কোনও সাধারণ বার্তা নয়, বরং এটি হতে চলেছে এক ‘লাইভ মহাবিস্ফোরণ’। রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে মারাত্মক অভিযোগ তিনি এনেছেন, আজ দুপুর ৩টের লাইভে সেই সংক্রান্ত আরও কিছু অকাট্য প্রমাণ বা বিস্ফোরক গোপন নথি তিনি জনসমক্ষে নিয়ে আসতে পারেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বহু গোপন কীর্তি এবং তৃণমূলের বর্তমান ভগ্নদশার আসল রূপ তিনি আজ ফেসবুকের দেওয়ালে সরাসরি ফাঁস করে দিতে পারেন বলে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে।

রবিবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে মদন মিত্রের বলা, “তুমি পয়সা দিয়ে মার্ডার করাও, তোমার মানসিকতাই ক্রিমিনাল”—এই মন্তব্যটি যে কেবল কথার কথা ছিল না, তা আজ দুপুরের লাইভের প্রস্তুতি দেখেই স্পষ্ট হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল আজ আর ক্ষমতায় নেই, এখন তারা বিরোধী আসনে। এই পরিস্থিতিতে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ তোলার পেছনে নিশ্চয়ই মদন মিত্রের হাতে কোনও বড়সড় ‘অস্ত্র’ রয়েছে, যা তিনি আজ ঠিক দুপুর ৩:০০ টের সময় বাংলার মানুষের সামনে মেলে ধরবেন।

এমনিতেই মহাভারতের ‘গান্ধারী ও ধৃতরাষ্ট্র’-এর প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্ধ স্নেহের রাজনীতিকে তীব্র খোঁচা দিয়েছেন মদন। আজ তিনি যখন বিধানসভার অলিন্দ থেকে লাইভে বসবেন, তখন তাঁর দিকে কেবল সাধারণ মানুষই নয়, চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকবে কালীঘাট শিবিরের শীর্ষ নেতারাও। একুশে জুলাইয়ের দুই শিবিরের পৃথক কর্মসূচির ঠিক মুখে আজ দুপুর ৩:০০ টেয় মদন মিত্র কোন নতুন বোমা ফাটান এবং কার কার মুখোশ টেনে খোলেন, এখন সেটাই দেখার।