প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পরীক্ষা দুর্নীতির জ্বলন্ত আগুন এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল দেশের সংসদ ভবনের প্রধান ফটকে। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE) খাতা দেখায় নজিরবিহীন জালিয়াতির প্রতিবাদে সোমবার কার্যত এক রুদ্ধশ্বাস রণক্ষেত্রের রূপ নিল দেশের রাজধানী দিল্লি। প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ডাকে সাড়া দিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সংসদ ভবন অভিযানের জেরে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হলো, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে দেখা যায়নি। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তড়িঘড়ি তালা মেরে বন্ধ করে দেওয়া হলো সংসদ ভবনের মূল প্রবেশদ্বার! পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় পুরো দিল্লি জুড়ে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা এবং স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির যন্তরমন্তরে জড়ো হতে শুরু করেছিলেন হাজার হাজার ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সংসদ ভবন ঘেরাও করে শিক্ষা ব্যবস্থার এই দুর্নীতির জবাব চাওয়া। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সংসদের অভিমুখে পা বাড়ানোর আগেই পুলিশ তাঁদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। যন্তরমন্তরে ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলেই পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করে এবং একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। রাজপথ মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও চিৎকারে রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। কিন্তু পুলিশের এই চরম দমনপীড়ন ও ধরপাকড়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একদল মরিয়া আন্দোলনকারী সমস্ত নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সরাসরি পৌঁছে যান সংসদ ভবনের মূল গেটের সামনে। সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করলে চরম আতঙ্ক তৈরি হয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরাপত্তারক্ষীরা তড়িঘড়ি সংসদের প্রধান গেটটি লক করে দেয়।
দিল্লির রাজপথের এই নজিরবিহীন উত্তেজনার আঁচ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সংসদের ভেতরেও। নিট ও সিবিএসই কেলেঙ্কারি নিয়ে অবিলম্বে সমস্ত কাজ স্থগিত রেখে জরুরি আলোচনার দাবি জানান বিরোধীরা। সরকার পক্ষ আলোচনা এড়াতে চাইলে সংসদের উভয় কক্ষেই তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন দফায় দফায় মুলতুবি করতে বাধ্য হন স্পিকার। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই চরম বিপর্যয়ের মাঝেই রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষোভের মুখেই তড়িঘড়ি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে ছোটেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
এই ছাত্রবিক্ষোভ যাতে গোটা দেশে বা দিল্লির অন্যান্য প্রান্তে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য কঠোরতম প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। সম্পূর্ণ রাজধানী জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল) জারি করে সব ধরনের জমায়েত বা মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আন্দোলনকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এবং লাইভ সম্প্রচার রুখতে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ (ব্ল্যাকআউট) করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি এবং সরকারের এই চরম প্রতিরোধ এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতিকে কোন অগ্নিকুণ্ডের দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।