প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-খেলা ঘুরে গিয়েছে! যারা এতদিন নিজেদের ‘শহিদ’ দরদী বলে দাবি করত, আজ বিধানসভার মেঝেই যেন তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল। চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে, আর ক্ষমতার তখত হারালে যে পাপের ফাইল খোলে— আজ সেটাই আরও একবার প্রমাণিত হলো। ঠিক ২১শে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের আগের দিন, বিধানসভার অলিন্দে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে সরকারি নথি জনসমক্ষে আনলেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাইয়ের সেই অভিশপ্ত পুলিশি গুলিকাণ্ড— যার ওপর ভিত্তি করে তৃণমূলের এত বছরের রাজনৈতিক পথচলা, আজ সেই সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের মূল রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, ‘শহিদ’ আবেগের আড়ালে আসল সত্যটাকে কীভাবে স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।

প্রশ্নটা কিন্তু খুব সহজ, কিন্তু উত্তরটা অত্যন্ত রাজনৈতিক। ১৯৯৩ সালের সেই যুব কংগ্রেসের মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান ছায়াসঙ্গী ছিলেন প্রয়াত নেতা পঙ্কজ ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সেই অকাট্য প্রশ্নটাই ছুঁড়ে দিয়েছেন। তাঁর সাফ প্রশ্ন— ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে ঘটা করে যে জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করলেন, সেই কমিশনের সামনে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হওয়া সত্ত্বেও পঙ্কজ ব্যানার্জি একটিবারের জন্যও কেন সাক্ষ্য দিতে গেলেন না? তৎকালীন সরকারের এত ঘনিষ্ঠ, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হওয়া সত্ত্বেও কোন রহস্যময় কারণে তিনি মুখ বন্ধ রেখেছিলেন, তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সত্য যাতে বাইরে না আসে, সাজানো গল্প যাতে ফেঁসে না যায়, তার জন্যই কি পঙ্কজ ব্যানার্জির এই নীরবতা ছিল? এই প্রশ্ন তুলে আজ তিনি কার্যত বিরোধীদের কোণঠাসা করে দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বিধানসভার স্পিকারের কাছে বিশেষ ১০ মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে রিপোর্টের মূল সুপারিশগুলি এক এক করে পড়ে শোনান। আর সেখানেই বিগত তৃণমূল সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী কড়া সুরে বলেন, “আপনারা প্রতি বছর ২১শে জুলাই শহিদ দিবস পালন করেন, অথচ নিজেদের তৈরি করা কমিশনের রিপোর্ট দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও কেন বিধানসভায় পেশ করার সাহস পাননি?” বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট সুপারিশ করেছিলেন— নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ও উপযুক্ত পুনর্বাসন দিতে হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকার সেই ফাইল লাল ফিতের তলায় চাপা দিয়ে রেখেছিল। আজ নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই সুপারিশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার এবং শহীদ পরিবারগুলোকে সব রকম আর্থিক ও আইনি সহযোগিতার কথা বড় ঘোষণা করেছে।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের এই শহিদ আবেগের রাজনীতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২১শে জুলাইয়ের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বিরোধী শিবিরকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন— বিচার আর আটকে থাকবে না। আজ বিকেলে এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ সর্বসাধারণের সামনে আসার সাথে সাথেই প্রমাণিত হয়ে যাবে যে, ১৫ বছর ধরে শহিদদের আত্মত্যাগকে স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা। মুখ্যমন্ত্রী যে প্রশ্ন আজ তুলে দিলেন, তার আইনি ও রাজনৈতিক জবাব কি এখন বিরোধীদের কাছে আছে? নাকি পঙ্কজ ব্যানার্জির সেই রহস্যময় নীরবতার পেছনে থাকা খতিয়ান এবার সরাসরি আদালতের চৌকাঠে গিয়ে ধাক্কা খাবে? বাংলার মানুষ এখন সেই জবাবেরই অপেক্ষায়।

 

(নোট: এই প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি বিধানসভায় পেশ করা সরকারি রিপোর্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। তবে এই বিষয়ে বিরোধী শিবিরের কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা দাবি সামনে এলে তা যথাসময়ে এই খবরে যুক্ত করা হবে।)