প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ দিন ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে ঘিরে সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। একদিকে যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির এবং অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এর মধ্যে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঘটল সেই বড় ঘটনা। সমস্ত রকম প্রলোভন, বিপুল টাকা এবং লাঞ্ছনার চাপ হেলায় উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চেই শামিল হলেন ১৯৯৩ সালের পুলিশ-এর গুলিতে নিহত শহিদদের পরিবারের সদস্যরা। আর এর জেরে রাজনৈতিক মহলের মতে, শহিদদের উত্তরাধিকার প্রমাণের লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল বিরোধী ও বিদ্রোহী শিবির।
বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের প্রধান সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দাবি করেন, শহিদ পরিবারগুলোকে নিজেদের দিকে টানতে বিপুল টাকার প্রলোভন ও চাপ দেওয়া হয়েছিল। সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে পরিবারগুলি তাঁর পরিচালিত ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এর সভায় আসায় তিনি বলেন, “এত প্রলোভন, এত টাকা, এত লাঞ্ছনা, এত বঞ্চনা থাকা সত্ত্বেও শহিদ পরিবার আমাদের কাছে এসেছে।”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের উদ্দেশ্যে মমতা সাফ জানান, “আপনাদের আর প্রয়োজন নেই, ধনে-মানে-প্রাণে ভালো থাকুন।” এ বছর কলকাতার রাজনীতিতে ২১ জুলাই শহিদ দিবসকে ঘিরে ত্রিমুখী দৃশ্য দেখা গেছে— গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রতের বিদ্রোহী শিবির, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা এবং শহিদ মিনারে প্রদেশ কংগ্রেসের কর্মসূচি।
হুগলির শহিদ অসীম দাসের পরিবার এবং মেদিনীপুরের শহিদ শেখ আব্দুল খালেকের পরিবারের মতো মূল শহিদ পরিবারগুলি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, তাদের কাছে তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২১ জুলাইয়ের আগের রাতে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট-তৃণমূলের সভাস্থলে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ ওঠে। রাতভর সভাস্থলে তদারকি করতে হাজির হন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও এই হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। পুলিশ প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।