প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এবার সরাসরি আদি বনাম নব্য কোন্দলে বিদীর্ণ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের পুণ্যলগ্নে কলকাতার মেয়র রোডের বিকল্প সমাবেশ থেকে দলের কর্পোরেট কালচার এবং সেলিব্রিটি নির্ভরতার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন যুদ্ধ ঘোষণা করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। দলের আদি আন্দোলনের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তীব্র বাক্যবাণ ছুঁড়ে দিলেন তিনি।

তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা যুগের নেতা মদন মিত্র এদিন সাফ জানিয়ে দেন যে, তৃণমূলের আদি জমানার ত্যাগী কর্মীরাই দলের আসল চালিকাশক্তি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে চড়া সুরে তিনি মনে করিয়ে দেন, “শুনে রাখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনাকে মুখ্যমন্ত্রী অভিষেক বানায়নি, সেলিব্রিটিরা বানায়নি।” তাঁর দাবি, দলের নিচুতলার লড়াইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইদানীংকালে বিনোদন জগতের তারকা ও কিছু চশমখোর নেতাদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে মে মাসের নির্বাচনে।

নেত্রীর প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে মদন মিত্র বলেন, “অভিষেক আপনাকে এক ঘণ্টা সময় দিয়েছে, আমরা এক এক মাস সময় দিচ্ছি। আপনি অভিষেককে ছাড়ুন, এই মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে বলুন, আপনি তৃণমূলের সঙ্গে আছেন, অভিষেকের সঙ্গে নেই।” দলনেত্রীর প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এসে বলুন, আমার ভুল হয়েছিল, আমি গান্ধারীর মতো পুত্রস্নেহে অন্ধ ছিলাম।”

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত বিলাসবহুল রাজনীতি এবং কর্পোরেট ঘরানার সিদ্ধান্তকেই দল ডুববার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মদন মিত্র। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “দু’ঘণ্টার মধ্যে এই সভামঞ্চে এসে বলো, আমার অপরাধ হয়েছে। আমার জন‍্য গোটা পার্টিটা শেষ হয়ে গিয়েছে, আমি ভুল স্বীকার করছি।”

তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেও প্রাক্তন নেত্রীর প্রতি এক অদ্ভুত টান শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়। মদন মিত্র বলেন, “যদি হিম্মত থাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনি হেঁটে আসুন, একটা ঢিলও পড়বে না, আমরা আমাদের গলার উত্তরীয় পেতে দেব। সেই উত্তরীয় মাড়িয়ে আপনি আসুন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের নব্য ও কর্পোরেট শিবিরের বিরুদ্ধে আদি তৃণমূলী কর্মীদের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ দলটিকে চিরতরে খণ্ডবিখণ্ড করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।