প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত আইজি তথা প্রখ্যাত প্রাক্তন আইপিএস (IPS) আধিকারিক প্রয়াত পঙ্কজ দত্তকে থানার ভেতরে ডেকে নজিরবিহীন হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশি ক্ষমতার এই চরম অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে কলকাতার বড়তলা থানার তৎকালীন তদন্তকারী আধিকারিক (IO) এসআই সাধন দাস এবং সেই সময়কার আইসি (IC) সুবর্ণ দত্ত চৌধুরীকে সরাসরি সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিধানসভার অধিবেশনে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

আজ বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশের অতিসক্রিয়তা এবং একজন প্রবীণ ও সৎ অফিসারের ওপর হওয়া হেনস্থার বিবরণ অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে পেশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্ত। তাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী—যিনি আমার কাছে দুবার হেরেছেন (একবার ভবানীপুরে, আর একবার নন্দীগ্রামে)—এখানে সদস্য নন তাই নাম নিলাম না। তাঁর নির্দেশে ওনাকে বড়তলা থানাতে একাধিক দিন ডেকে হ্যারাসমেন্ট করা হয়।” মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান, পঙ্কজ বাবুকে সকাল ১০টায় বড়তলা থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল এবং একটানা দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ১০টায় ছাড়া হয়। এই দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার অবরুদ্ধ জেরার সময়ে প্রবীণ এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তাকে থানায় চা তো দূরের কথা, জল খেতেও দেওয়া হয়নি। করা হয় অপরিসীম হেনস্থা।মুখ্যমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, “আমি সেইসময় তৎকালীন বিধায়কদের নিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম।” এর পরেই তিনি কড়া অ্যাকশন নিয়ে জানান, সেই সময়কার আইও (IO) এসআই সাধন দাস এবং সেই সময়ের আইসি সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী (যিনি বর্তমানে কলকাতা পুলিশের এসবি-তে কর্মরত ছিলেন), দুনাকেই অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হলো।

আরজি কর মেডিকেল কলেজের ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করার জেরে পঙ্কজ দত্তকে বড়তলা থানায় তলব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উত্তরপ্রদেশের বেনারসে (বারাণসী) একটি বিশেষ লেকচার দিতে গিয়ে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন মারা যান। সম্প্রতি পঙ্কজ দত্তের মৃত্যুর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত নিজে লেকটাউন থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর রাজ্য পুলিশ মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে বার্তা দিলেন যে—পূর্বতন সরকারের আমলে করা পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার বা অসংবেদনশীল আচরণ বর্তমান সরকার কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না এবং অপরাধী যত বড়ই পুলিশ আধিকারিক হোন না কেন, তাঁকে শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে।