প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার চূড়ান্ত তৎপরতা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার। কোটি কোটি টাকার কেকেঙ্কারির খোঁজে আজ, ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার সল্টলেকের সিজিও (CGO) কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তলবে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। ইডি সূত্রের খবর, এই তলবের মূল নেপথ্যে রয়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন, যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য যাচাই করতে চান তদন্তকারীরা।

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, কামারহাটি ও টিটাগড় সহ বিভিন্ন পুরসভার গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পদে বহু অযোগ্য প্রার্থীকে বেআইনিভাবে নিয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিনিময়ে কিছু এজেন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছিল। এই টাকা ঘুরপথে কোথায় গিয়েছে, তা চিহ্নিত করাই কেন্দ্রীয় এজেন্সির মূল লক্ষ্য।

এই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই গত জুন মাসে বিধায়কের একাধিক ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তদন্তের জাল গুটিয়ে আনতে ইডি আধিকারিকরা গত সপ্তাহে বিধায়কের পরিবারের বাকি তিন সদস্যকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ছোট ছেলে (শুভরূপ মিত্র): গত ২২ জুলাই, বুধবার তাঁকে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। বড় ছেলে (স্বরূপ মিত্র): গত ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় আর্থিক নথিপত্র ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস নিয়ে ইডি দফতরে হাজির হন তিনি। স্ত্রী (অর্চনা মিত্র): গত ২৪ জুলাই, শুক্রবার তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে নিজের বয়ান রেকর্ড করান।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আর্থিক উৎস এবং লেনদেনের ধরন খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া কোনো অর্থ সরাসরি বা ঘুরপথে এই অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন হয়েছিল কি না, তা মেলানোর চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা।

সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার মুখে বিধায়ক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, “তদন্তকারী সংস্থা ডেকেছে, তাই একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে এসেছি।” আইনি জটিলতা এড়াতে তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই পরিবারের আয় এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইডির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।আদালতের নজরদারিতে চলা এই কেন্দ্রীয় তদন্তের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।