প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় পথ দুর্ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষিত করতে এবার এক বিশাল সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বিশেষ ‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ’। এই উপলক্ষ্যে সকালে নিজের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে লিখেছেন, “আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ রাস্তা, নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ।” তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে রাস্তাঘাটে সুরক্ষার বিষয়টি কেবল প্রশাসনের একার নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর নির্ভর করে।

এক্স হ্যান্ডলে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “সবার জীবনই মূল্যবান, পথ নিরাপত্তা আইন মেনে চলাটা যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনই এটি একটি সামাজিক দায়িত্বও বটে।” পথচলতি মানুষ এবং গাড়িচালকদের সচেতন করতে তিনি যোগ করেন, “সতর্কতা অবলম্বন করে গাড়ি চালালে বা সচেতনভাবে হাঁটলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।” রাজ্যের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা বা ‘ব্ল্যাক স্পট’গুলিতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আমজনতার মানসিকতায় বদল আনাই যে এই নিরাপত্তা সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য, তা মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা থেকেই পরিষ্কার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে একজোট হয়ে পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাঁর পোস্টে কতগুলি সুনির্দিষ্ট নিয়মের কথা উল্লেখ করে সবাইকে একসঙ্গে শপথ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। ১. সবসময় ট্র্যাফিক সিগনাল ও ট্র্যাফিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। ২. গাড়ির অতিরিক্ত গতি এড়াতে হবে, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করা যাবে না। ৩. কোনো অবস্থাতেই মদ্যপান করে গাড়ি চালানো যাবে না। ৪. গাড়ি চালানোর সময় সবসময় সিটবেল্ট এবং বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সমস্ত ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামতের জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কড়া ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন। ঠিক তার পরেই এই ‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ’ শুরু হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সপ্তাহ জুড়ে রাজ্যজুড়ে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হবে। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হাইওয়েগুলিতে বিশেষ ড্রাইভ চালানো হবে। স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের সচেতন করার পাশাপাশি আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।