প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে নাকি কোনো চিরস্থায়ী শত্রু বা চিরস্থায়ী মিত্র হয় না। কিন্তু যখন ক্ষমতার অলিন্দে বসার সুযোগ তৈরি হয়, তখন শত্রু-মিত্রের সংজ্ঞাটা যে কতটা দ্রুত বদলে যায়—তা বোধহয় এই মুহূর্তের বাংলার রাজনীতি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। মঙ্গলবার দিল্লির বুকে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন নাটক। একদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এনডিএ (NDA)-র হাইপ্রোফাইল মেগা বৈঠক। আর তার ঠিক পরেই দিল্লির বঙ্গভবনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল ভেঙে বেরিয়ে আসা নতুন দল NCPI (National Citizens Party of India)-এর বিদ্রোহী সাংসদদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক!এই ‘মঙ্গল-মিলন’ ঘিরেই এবার বঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র শ্লেষ আর আক্রমণের পারদ চড়ালেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। দলবদলু নেতাদের দিকে সোজা তোপ দেগে তথাগত রায় যা বললেন, তাতে এক ঝটকায় অস্বস্তি বাড়ল খোদ পদ্ম শিবিরেরও!
যে নেতারা এতদিন জোড়াফুলের প্রতীকে জিতে সংসদে গিয়েছিলেন, আজ তাঁরাই দল ভেঙে রাতারাতি ছাতা বদলে এনডিএ-র দিকে পা বাড়াচ্ছেন। এই ডিগবাজির রাজনীতিকে তীব্র আক্রমণ করে তথাগত রায় সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফ বললেন: “তৃণমূলের মতাদর্শ ছিল টাকা পয়সা খাবলানোর।”এখানেই থামেননি বর্ষীয়ান এই নেতা। শ্লেষাত্মক সুরে তাঁর সংযোজন—টাকা খাবলানোর সুযোগ যতদিন ছিল, ততদিন দলটা এক ছিল। এখন দুর্নীতি রুখতে যখন এজেন্সির খাঁড়া মাথার ওপর ঝুলছে, তখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এই পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁরা এখন তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে ঢুকছেন। আর NCPI-এর নাম ভাঙিয়ে কার্যত পিছনের দরজা দিয়ে বিজেপিতে সেঁধোনোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন!”
তথাগত রায়ের এই ঝাঁঝালো বিবৃতির সবচেয়ে বড় তিরটি ধেয়ে গিয়েছে নিজের দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দিকে। দিল্লিতে যখন NCPI সাংসদদের এনডিএ জোটে স্বাগত জানানোর জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই নেতাদের ‘সুযোগসন্ধানী’ আখ্যা দিয়ে তথাগত রায়ের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—”এদের কখনই বিজেপিতে নেওয়া উচিত নয়।” রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, তথাগত রায় আসলে সেই সমস্ত পুরনো এবং কট্টর বিজেপি কর্মীদের মনের ক্ষোভটাই উগরে দিয়েছেন, যাঁরা বিগত দিনে দলবদলুদের দলে নেওয়ার কুফল হাতেনাতে ভোগ করেছেন।
উল্লেখ্য, লোকসভার স্পিকার ইতিমধ্যেই সংসদের নিম্নকক্ষে তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই ২০ জন সাংসদের জন্য আলাদা বসার আসনের ব্যবস্থা মঞ্জুর করেছেন। আর এই আইনি সিলমোহর মেলার পরেই, দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ বৈঠক বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নটা যেখানে নীতি আর আদর্শের, সেখানে তথাগত রায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্য কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিল—দিল্লি যতই ফুলমালা নিয়ে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হোক না কেন, বাংলার মাটিতে পুরনো বিজেপি নেতৃত্ব এই ‘আয়া রাম, গয়া রাম’ সংস্কৃতিকে এত সহজে মেনে নিতে রাজী নয়। এখন দেখার, তথাগত বাবুর এই কড়া বার্তার পর দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের আগামী পদক্ষেপে কোনো রদবদল করে কিনা!