প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) গ্রুপ-ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় আইনি অগ্রগতি। এই মামলায় সিবিআই (CBI)-এর পেশ করা নতুন সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম থাকা রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, এসএসসি-র প্রাক্তন উপদেষ্টা এসপি সিনহা এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় সহ মোট ২৪ জন অভিযুক্তের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করল আদালত। আজ বুধবার আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে এই জামিন মঞ্জুর করা হয়।সাম্প্রতিক সময়ে এই মামলায় সিবিআই-এর পক্ষ থেকে যে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছিল, আইনি নিয়ম মেনে আজ সেই চার্জশিটের ভিত্তিতেই জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
আজ শুনানির শুরুতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর আইনজীবী অভিযুক্তদের জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দুর্নীতির গুরুত্ব বিচার করে এই স্তরে জামিন দেওয়া উচিত নয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দু’পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিশেষ আদালতের বিচারক চার্জশিটভুক্ত সমস্ত ২৪ জন অভিযুক্তেরই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করার নির্দেশ দেন। আইনজীবীদের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী গাইডলাইন অনুযায়ী—তদন্ত শেষ করে চার্জশিট পেশ হওয়ার পর যদি অভিযুক্তদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আর প্রয়োজন না থাকে, তবে সাধারণত আদালত ট্রায়াল বা বিচার শুরু হওয়ার আগে জামিন মঞ্জুর করে।
আজকের আদালতের শুনানিতে এক গুরুত্বপূর্ণ চিত্র দেখা যায়। আইনি নির্দেশিকা মেনে এবং সশরীরে বন্ড বা জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, এসএসসি-র প্রাক্তন উপদেষ্টা এসপি সিনহা সহ চার্জশিটে নাম থাকা বাকি সমস্ত অভিযুক্তরাই ব্যক্তিগতভাবে এজলাসে উপস্থিত হন। তবে মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায় আজ সশরীরে আদালত কক্ষে আসেননি। তবে তাঁর জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির অন্যান্য মামলায় (যেমন পিএমএলএ বা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলা) সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট থেকে আগেই জামিন পেয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
আজ বিশেষ সিবিআই আদালত স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিট জমা দেওয়ার পর এবং আজ সমস্ত অভিযুক্তদের আইনি জামিন সম্পন্ন হওয়ার কারণে এই মামলার প্রি-ট্রায়াল বা প্রাথমিক আইনি জট কেটে গেছে। ফলে খুব তাড়াতাড়িই বিশেষ আদালতে গ্রুপ-ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার মূল বিচার প্রক্রিয়া বা ট্রায়াল (Trial) শুরু হতে চলেছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে সাক্ষ্যগ্রহণ এবং তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির চূড়ান্ত রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।